মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের হাতির হানায় মর্মান্তিক মৃত্যু! ডুয়ার্সের চা বাগান চত্বরে চরম আতঙ্ক

আলিপুরদুয়ার জেলার বীরপাড়া ব্লকে বুনো হাতির হানায় আবারও একজনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে এমন মারাত্মক দুর্ঘটনা দ্বিতীয়বার ঘটায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও গভীর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। চা বাগান চত্বরের সাধারণ মানুষ এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল সোয়া সাতটা নাগাদ আলিপুরদুয়ার জেলার বীরপাড়া থানার ডলমোর চা বাগানের ১৪বি নম্বর সেকশনে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। ডলমোর বাসবাড়ী লাইনের বাসিন্দা ৭০ বছর বয়সী কালু থাপা নামের এক বৃদ্ধ প্রাতঃভ্রমণ বা কাজের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। সেই সময় আচমকা একটি বুনো হাতি তাঁর ওপর চড়াও হয়। বুনো হাতির নির্মম হানায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর প্রাণপাক্ষি উড়ে যায়।
উল্লেখ্য, ঠিক দু’দিন আগেই বীরপাড়া ডিভিশনে অন্য একটি ঘটনায় এক ব্যক্তিকে পিষে মেরেছিল একটি বুনো হাতি। সেই পুরনো ক্ষত ও আতঙ্কের রেশ কাটতে না কাটতেই পুনরায় একই এলাকায় এই ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন দাউদাউ করে জ্বলে উঠেছে। বুনো হাতির অবাধ বিচরণ এবং বন দফতরের বিরুদ্ধে উদাসীনতার অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন এলাকাবাসী। ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান বনকর্মীরা। তাঁরা মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছেন।
এদিকে, এই ঘটনার পাশাপাশি গত মাসে জলপাইগুড়ির গোরুমারা জাতীয় উদ্যানের ভেতরে ঘটে যাওয়া আরও একটি মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাও সামনে এসেছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর দুপুর নাগাদ হাতি নিয়ে জঙ্গলে টহল দিতে গিয়েছিলেন অর্জুন ওঁরাও নামের বছর চল্লিশের এক মাহুত। সেই সময় হঠাৎ আকাশ কালো করে ব্যাপক বৃষ্টি শুরু হলে হাতিটিকে ছেড়ে একটি গাছের তলায় আশ্রয় নিয়েছিলেন অর্জুন। ঠিক সেই মুহূর্তেই আচমকা বজ্রপাত হলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। সহকর্মী মাহুতরা দ্রুত খবর পেয়ে অর্জুনকে উদ্ধার করে চালসা মঙ্গলবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
শুধু তাই নয়, গোরুমারা অভয়ারণ্য এলাকায় বজ্রপাতের পাশাপাশি প্রবল ঝড়ও তাণ্ডব চালায়। ঝড়ের জেরে জঙ্গলের একাধিক গাছ ভেঙে রাস্তায় পড়ে যাওয়ার কারণে জলপাইগুড়ি থেকে মালবাজারগামী রাজ্য সড়ক প্রায় দু’ঘণ্টা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। এর ফলে রাস্তায় প্রচুর গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স আটকে পড়ে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। তবে খবর পাওয়া মাত্রই বনকর্মীরা তৎপর হয়ে রাস্তায় পড়ে থাকা গাছগুলো সরিয়ে ফেলার কাজ দ্রুত শুরু করেন। ডুয়ার্স জুড়ে একের পর এক এমন অস্বাভাবিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং বন দফতরের স্থায়ী সমাধানের দাবি জোরালো হচ্ছে।