মাত্র ২০ টাকার পেনি স্টক পেল হাজার কোটির মেগা অর্ডার! আজই কি ঘুরবে ভাগ্য?

ভারতীয় শেয়ার বাজারে পেনি স্টক এবং কম দামের শেয়ারগুলির দিকে সর্বদা বিনিয়োগকারীদের একটি বিশেষ নজর থাকে, কারণ এই ধরনের সংস্থাগুলি কম সময়ের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের দুরন্ত বা মাল্টিব্যাগার রিটার্ন উপহার দিতে পারে। ঠিক তেমনই এক নজরকাড়া কম দামের স্টক আজ বুধবার বিনিয়োগ মহলে তীব্র কৌতূহল ও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। ন্যাশনাল হাইওয়েজ অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের একটি বড় কার্যাদেশ বা অর্ডার হাতে পাওয়ার পরেই এই বিশেষ কোম্পানিটিকে ঘিরে উৎসাহের অন্ত নেই। হাজার কোটি টাকার মার্কেট ক্যাপিটাল বিশিষ্ট এই স্মল ক্যাপ কোম্পানিটি তার বিনিয়োগকারীদের বড় চমক দিতে প্রস্তুত কি না, এখন সেটাই সবথেকে বড় প্রশ্ন।

সংস্থার তরফ থেকে স্টক এক্সচেঞ্জকে এই নতুন অর্ডারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। কোম্পানির ম্যানেজমেন্ট জানিয়েছে যে, তারা ন্যাশনাল হাইওয়েজ অথরিটির কাছ থেকে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে নির্দিষ্ট রুটে ‘ইউজার ফি’ বা টোল আদায় করার একটি লোভনীয় কন্ট্রাক্ট লাভ করেছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর এই সংক্রান্ত অফিশিয়াল ‘লেটার অফ অ্যাওয়ার্ড’ বা কাজের অনুমোদনপত্র এসে পৌঁছেছে কোম্পানির হাতে। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই স্টক মার্কেটের অভিজ্ঞ কারবারিরা স্টকটির বর্তমান গতিপ্রকৃতি নিয়ে ব্যাপক বিশ্লেষণ শুরু করেছেন, যা আজকের ট্রেডিং সেশনে বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে এই শেয়ারের ঐতিহাসিক মূল্য পরিসংখ্যান বেশ চাঞ্চল্যকর। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এই স্টকটি তার সর্বকালের সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু এর ঠিক পরেই কোম্পানিটির শেয়ার টানা প্রবল বিক্রির চাপের মুখে পড়ে, যার ফলে সাধারণ খুচরো বিনিয়োগকারীরা বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হন। একসময়ের ৬৩.৯০ টাকার সর্বকালের সর্বোচ্চ দর থেকে পতন হতে হতে এই শেয়ারের বর্তমান বাজারদর নেমে এসেছে মাত্র ২০ টাকার কোঠায়। হিসেব কষে দেখলে বোঝা যায়, শেয়ারটি তার সর্বকালের উচ্চতা থেকে প্রায় ৬৯ শতাংশ মূল্য হ্রাসের শিকার হয়েছে।

শুধু তাই নয়, গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে প্রায় ৩৩ শতাংশ দরপতনের মধ্য দিয়ে বছর শেষ করেছিল এই স্টকটি। সেই বিক্রির লাগাতার চাপ চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালেও অবিকল বজায় রয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এই শেয়ারটির দর আরও প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে। বিশেষ করে গত সাত মাসের মধ্যে টানা পাঁচ মাসই এই স্টকের বিনিয়োগকারীরা ক্ষতির মুখ দেখেছেন, যার মধ্যে চলতি বছরের মার্চ মাসেই এক ধাক্কায় সর্বোচ্চ ২৭ শতাংশ দরপতন রেকর্ড করা হয়েছিল। তবে বর্তমান এই নতুন অর্ডারের হাত ধরে দীর্ঘদিনের পতন কাটিয়ে স্টকটি ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সমগ্র বাজার।