প্রতিদিন হু হু করে বাড়ছে হাঁপানি, দূষণের চোটে ছোটদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় বিপদের ঘণ্টা!

যানবাহনের কালো ধোঁয়া ও মারাত্মক বায়ুদূষণ শুধু বড়দেরই নয়, কেড়ে নিচ্ছে কচিকাঁচাদের শৈশব এবং তাদের পড়াশোনার অমূল্য সময়। সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অন ক্লিন ট্রান্সপোর্টেশন (ICCT)-এর পক্ষ থেকে গুরুগ্রামে যানবাহনের দূষণের প্রভাব নিয়ে একটি চাঞ্চল্যকর সমীক্ষা প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২৫ সালকে ভিত্তি করে পরিচালিত এই গবেষণায় ৫ থেকে ১৮ বছর বয়সি শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের ওপর সড়ক পরিবহনের দূষণের অত্যন্ত ভয়াবহ ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব সামনে এসেছে। সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, যানবাহনের বিষাক্ত ধোঁয়া ও দূষণের কারণে গুরুগ্রামে মোট ৯৪,৮৫৮টির বেশি স্কুল দিবস নষ্ট হয়েছে।
এই বিশাল অঙ্কের পরিসংখ্যানের গভীরতা বোঝাতে গিয়ে গবেষকরা জানিয়েছেন, ৯৪,৮৫৯টি নষ্ট হওয়া স্কুল দিবস ক্যালেন্ডার বছরের ভিত্তিতে হিসাব করা হয়েছে। এর সহজ অর্থ হলো, দূষণের কারণে সৃষ্ট শারীরিক অসুস্থতার জেরে ৪৩১ জন শিশু পুরো একটি শিক্ষাবর্ষে স্কুলেই যেতে পারেনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পড়াশোনার এই বিপুল ক্ষতি অপূরণীয়। ক্লাসের এই সময়টুকু একবার হারালে তা আর সহজে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয় না, যা সরাসরি শিশুদের মেধা বিকাশ ও শিক্ষাগত মানকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
শুধু পড়াশোনাই নয়, শিশুদের শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে এই দূষণ। আইসিসিটি-র সমীক্ষায় প্রকাশ পেয়েছে যে, যানবাহনের নিষ্কাশিত বিষাক্ত ধোঁয়ার প্রভাবে নতুন করে প্রায় ৮৯টি হাঁপানি বা অ্যাজমার ঘটনা সামনে এসেছে। অর্থাৎ, প্রতি চার দিনে অন্তত একটি করে নতুন হাঁপানির কেস রেকর্ড করা হচ্ছে। গাড়ির ধোঁয়া সরাসরি শিশুদের দুর্বল ফুসফুসে আঘাত হানছে। উল্লেখ্য, দিল্লি ও জাতীয় রাজধানী অঞ্চল (NCR) থেকে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ লক্ষ যানবাহন গুরুগ্রামে প্রবেশ করে, যা এখানকার বাতাসের গুণমানকে লাগাতার বিপজ্জনক স্তরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
এই সংকটজনক পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে এবং শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে বেশ কিছু কার্যকরী প্রশমন ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেছে আইসিসিটি। সমীক্ষায় স্কুল বাস, দুই ও তিন চাকার গাড়ি এবং অন্যান্য পরিবহনে শূন্য-নিঃসরণকারী বা বৈদ্যুতিক যানবাহনের (EV) ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। গবেষকদের মতে, গুরুগ্রামের প্রতিটি নিবন্ধিত জ্বালানিচালিত যানবাহনকে যদি বৈদ্যুতিক যানে রূপান্তরিত করা যায়, তবে এর ফলে সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত সুবিধার প্রায় ৭৫ শতাংশ বা তিন-চতুর্থাংশ এক নিমেষে অর্জন করা সম্ভব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে এখনই কঠোর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।