মাঠ নেই তো কী হয়েছে! সুব্রত কাপে ইতিহাস গড়ে গভীর রাতে জঙ্গলমহলে রাজকীয় সংবর্ধনা কিশোর ফুটবলারদের

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ফুটবলের মানচিত্রে এক সোনালি ইতিহাস রচনা করে জঙ্গলমহলের কিশোর ফুটবলাররা যখন চ্যাম্পিয়ন ট্রফি নিয়ে নিজ জেলায় পা রাখলেন, তখন গভীর রাতের ঝাড়গ্রাম শহর জুড়ে তৈরি হলো এক অভূতপূর্ব আবেগঘন পরিবেশ। দীপান্বিতা রাতের অন্ধকার ভেদ করে প্রদীপের আলো, চন্দনের ফোঁটা এবং সুবাসিত ফুলের মালায় সুব্রত কাপজয়ী মানিকপাড়া বিবেকানন্দ শিকানিকেতনের খেলোয়াড়দের রাজকীয় সংবর্ধনা জানানো হয়। খেলোয়াড়েরা শহরে পৌঁছাতেই বাঁধভাঙা উল্লাসে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। শহরজুড়ে বেরোয় বর্ণাঢ্য বিজয় মিছিল, চলে একে অপরকে মিষ্টিমুখ করানোর পালা। ঝাড়গ্রামের পাঁচমাথা মোড়ে পৌঁছানোর পর জেলা প্রশাসন, মহকুমা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, স্থানীয় বিভিন্ন ক্লাব এবং ঝাড়গ্রামের বিশিষ্ট বিধায়কের পক্ষ থেকে বিজয়ী ফুটবলারদের সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়।

সুব্রত কাপ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টের অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ অনূর্ধ্ব-১৫ (সাব-জুনিয়র) বিভাগে শক্তিশালী অসম দলকে ১-০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে শিরোপা ছিনিয়ে নিয়েছে বাংলার এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুলটি। জঙ্গলমহলের কোনো বিদ্যালয়ের পক্ষে আন্তর্জাতিক স্তরের এই ঐতিহ্যবাহী ও মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নজির এই প্রথম। তবে এই ঐতিহাসিক জয়ের নেপথ্যের লড়াইটা কখনোই সহজ ছিল না। বিদ্যালয়টির নিজস্ব কোনো খেলার মাঠ নেই; স্থানীয় একটি ক্লাবের মাঠে কাঁদা-ধুলো মেখেই চলেছে তাদের অবিরাম ও কঠিন অনুশীলন। এর আগে চারবার জাতীয় স্তরের সুব্রত কাপে অংশ নিয়েছে এই স্কুল। অতীতে একবার সেমিফাইনালে পৌঁছেও স্বপ্নভঙ্গের বেদনা নিয়ে খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল। দীর্ঘদিনের সেই আক্ষেপ এবং না পাওয়ার যন্ত্রণা ঘুচিয়েই এবার এল পরম কাঙ্ক্ষিত সাফল্য।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শৈবাল মহাপাত্র গর্বের সঙ্গে জানান যে, অত্যন্ত সীমিত পরিকাঠামোর মধ্যেও ছেলেরা তাদের অদম্য জেদ ও পরিশ্রমের জোরে এই অসাধ্য সাধন করেছে। তিনি আরও বলেন, “আমাদের স্কুলে পরিকাঠামোর প্রচুর অভাব রয়েছে। আগামী দিনে যদি একটি ভালো মানের হোস্টেল ও স্থায়ী খেলার মাঠের ব্যবস্থা করা যায়, তবে এই ছেলেরা আরও বড় মঞ্চে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে।” স্কুলের এই অভাবনীয় সাফল্যে জঙ্গলমহল জুড়ে খুশির হাওয়া বইছে। ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক আকাঙ্খা ভাস্কর আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন যে, বিদ্যালয়ের পরিকাঠামোগত ঘাটতি দ্রুত পূরণ করার জন্য প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও এই উদীয়মান ও প্রতিভাবান ফুটবলারদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা এবং উন্নত প্রশিক্ষণের বন্দোবস্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।