মাঝআকাশে মারণ হামলা! কো-পাইলটকে কাবু করে ১৭৪ জনের প্রাণ বাঁচিয়ে ‘হিরো’ ভারতীয় পাইলট

দুবাই থেকে তেল আবিবগামী ‘ফ্লাইদুবাই’-এর একটি বিমানে এক রোমহর্ষক ও বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে, মাঝআকাশে ওই ফ্লাইটটি ক্র্যাশ করানোর চেষ্টা করেছিলেন খোদ কো-পাইলট। তবে চরম বিপদ ও প্রাণঘাতী হামলা প্রতিহত করে বিমানে থাকা ১৭৪ জন যাত্রীর প্রাণ বাঁচিয়েছেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার। তাঁর এই অসাধারণ সাহসিকতার জন্য তাঁকে ভূয়সী প্রশংসা করে ‘হিরো’ হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী জানান, শত শত মানুষের জীবন বাঁচানো এবং একটি বড় বিমান দুর্ঘটনা এড়ানোর ক্ষেত্রে তাঁর এই বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা দেশের জন্য অত্যন্ত গর্বের। পাশাপাশি, ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও ওই ভারতীয় পাইলটকে ‘প্রকৃত বীর’ বলে সম্মান জানিয়েছেন।
বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকে ইজরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ (FZ1073) ফ্লাইটে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। উড়ান চলাকালীন কো-পাইলটের হঠকারী ও হিংসাত্মক হামলার শিকার হন ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার। ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও তিনি দমে যাননি। রক্তে ভেসে যাওয়া অবস্থাতেও যাত্রী ও ক্রুদের সুরক্ষায় তিনি চরম তৎপরতা বজায় রাখেন। তাঁর অসীম সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তার ফলেই বিমানটিকে নিরাপদে সৌদি আরবের তাবুক শহরে ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেন, “ছুরি হামলায় গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও তিনি ককপিটের দরজা খোলেন এবং যাত্রী ও ক্রুদের সহায়তায় হামলাকারীকে কাবু করেন। ইজরায়েলি নাগরিক-সহ ১৭৪ জনের জীবন বাঁচানো এই পাইলট একজন প্রকৃত বীর।” অন্যদিকে, ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর দ্রুত আরোগ্য ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে লেখেন, “ক্যাপ্টেন মচ্ছারকে নিয়ে ভারত গর্বিত।” সৌদি আরবে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে যে, তাবুক শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ক্যাপ্টেন স্মিতের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে এবং তাঁর ওপর সম্পূর্ণ নজর রাখা হচ্ছে। বিমানটিতে ২৭ জন শিশুসহ মোট ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন এবং ইজরায়েলি বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান নিরাপত্তার স্বার্থে সজাগ ছিল। বর্তমানে পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।