মহাষ্টমীর আগেই বড় ধাক্কা! বিরাটির মিষ্টির দোকানে ফুড সেফটির আকস্মিক অভিযান

মহাষষ্ঠীর সকালেই খাদ্য সুরক্ষা দফতরের কড়া অভিযানে চাঞ্চল্য ছড়াল উত্তর দমদমের বিরাটি অঞ্চলে। আসন্ন দুর্গোৎসবের মরসুমে রাজ্যবাসীকে নিরাপদ ও মানসম্মত খাবার উপহার দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই আকস্মিক অভিযান চালান খাদ্য সুরক্ষা দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। এদিন উত্তর দমদম পৌরসভার ঠিক পাশেই অবস্থিত বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির দোকান থেকে শুরু করে স্থানীয় বাজারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারের মান খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হয়। তদন্তে নেমে বেশ কয়েকটি নামী মিষ্টির দোকানে খাদ্যের মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। একাধিক দোকানের মিষ্টির নমুনা পরীক্ষা করে সেগুলিকে নিম্নমানের বলে চিহ্নিত করেন আধিকারিকেরা। এরপর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে সেই সমস্ত অস্বাস্থ্যকর ও নিম্নমানের মিষ্টি মাটিতে ফেলে নষ্ট করে দেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট দোকান মালিকদের কঠোর ভাষায় সরকারি নোটিস ধরানো হয়।

শুধু মিষ্টির দোকানই নয়, এদিনের এই বিশেষ অভিযানে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকেরা বিরাটের বিভিন্ন বাজারের মাংস ও মশলার দোকানগুলিতেও হানা দেন। সেখানে পণ্যের গুণগত মান, সংরক্ষণের পদ্ধতি এবং পরিচ্ছন্নতার নানা দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হয়। দফতরের এক দায়িত্বশীল আধিকারিক এই অভিযান প্রসঙ্গে স্পষ্ট জানিয়েছেন, “উৎসবের এই আনন্দঘন সময়ে সাধারণ মানুষ যাতে কোনওরকম ভেজাল বা অস্বাস্থ্যকর খাবারের শিকার না হন এবং নিরাপদে ভালো খাওয়া-দাওয়া করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই নিরলস প্রচেষ্টা। বেশিরভাগ দোকানদার নিয়ম মেনে চললেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তা মানছেন না। আমরা তাঁদের প্রথম থেকেই সতর্ক করছি এবং ভবিষ্যতে এই কড়াকড়ি আরও বাড়াবে প্রশাসন।”

উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বর মাসেই রাজ্যজুড়ে খাবারে ভেজাল, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং ফুড লাইসেন্স সংক্রান্ত নানা অনিয়ম কঠোর হাতে রুখতে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের এক ভয়াবহ পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে এসেছিল। রাজ্যজুড়ে পালিত ‘স্পেশাল ফুড সেফটি উইক’-এর প্রথম তিন দিনের সরকারি তথ্যে জানা গিয়েছিল, রাজ্যের মোট ২,৩৩৭টি খাদ্য ও পানীয় সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানে আকস্মিক পরিদর্শন চালানো হয়েছিল। সেই রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে যে, পরিদর্শিত প্রতিষ্ঠানগুলির প্রায় ৮৮ শতাংশ অর্থাৎ ২,০৫৬টি প্রতিষ্ঠানেই গুরুতর অনিয়মের সন্ধান মিলেছে।

সেই ব্যাপক অভিযানের পরিসংখ্যান বলছে, অনিয়ম ধরা পড়ার পর মোট ২,০৩৯টি ক্ষেত্রে সংশোধনের নির্দেশ বা পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। ল্যাবরেটরি পরীক্ষার জন্য সংগ্রহ করা হয়েছিল ১,২৭৭টি খাদ্যের নমুনা। পাশাপাশি, ১৬টি প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট খাদ্যসামগ্রী বিক্রির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়, ৫টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন সম্পূর্ণ বাতিল কিংবা সাসপেন্ড করা হয়। পরিস্থিতি এতটাই সঙ্গীন ছিল যে ১৭টি প্রতিষ্ঠানকে তৎক্ষণাৎ সিল বা বন্ধ করে দেয় প্রশাসন এবং আইনি প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়। ১ সেপ্টেম্বর ৯০৬টি, ২ সেপ্টেম্বর ৮২৪টি এবং ৩ সেপ্টেম্বর ৬০৭টি প্রতিষ্ঠানে একটানা এই হানা চালানো হয়েছিল। বর্তমান পুজোর মরসুমে খাদ্যপণ্যের গুণমান বজায় রাখতে এবং ভেজাল রোধে প্রশাসনের এই অতিসক্রিয়তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।