মহালয়ার ভোরে গঙ্গার ঘাটে যাওয়ার কথা ভাবছেন? বড় বিপদে পড়ার আগে সরকারের এই কড়া নির্দেশিকা অবশ্যই জেনে নিন!

মহালয়ার (Mahalaya 2026) ভোরে গঙ্গার ঘাটে উপচে পড়া পুণ্যার্থীদের ভিড় এবং পিতৃপুরুষের উদ্দেশে তর্পণ পর্ব নির্বিঘ্ন করতে আগাম প্রস্তুতি ও একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশিকা জারি করল রাজ্য সরকার। প্রতি বছরের মতো এবারও মহালয়ার পুণ্যলগ্নে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের গঙ্গার ঘাটগুলিতে সাধারণ মানুষের বিপুল সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই জনস্রোত এবং তর্পণের সময় সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতেই জেলা প্রশাসন ও পুর কর্তৃপক্ষকে কোমর বেঁধে নামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গঙ্গার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘাট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা এবং পুণ্যার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে প্রশাসনের তরফ থেকে বিশেষ তদারকি শুরু হয়েছে।
প্রশাসনের জারি করা নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, মহালয়ার অনেক আগেই গঙ্গার সমস্ত প্রধান ঘাট এবং সংলগ্ন চত্বর সম্পূর্ণ জঞ্জালমুক্ত ও পরিষ্কার করতে হবে। ঘাটে যাতায়াতের রাস্তা, হাঁটার পথ, সিঁড়ি এবং চারপাশের এলাকা থেকে সমস্ত ধরনের আবর্জনা অবিলম্বে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোথাও পলি বা আগাছা জমে থাকলে তা দ্রুত পরিষ্কার করতে হবে, যাতে পুণ্যার্থীদের যাতায়াতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। পাশাপাশি, সিঁড়ি ও চাতালগুলি ভালোভাবে ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। কোথাও সিঁড়ির রেলিং বা হাঁটার রাস্তা ভাঙা থাকলে তা দ্রুত মেরামত করতে হবে এবং আসন্ন দুর্গাপুজো ও মহালয়াকে সামনে রেখে গুরুত্বপূর্ণ ঘাটগুলিতে সৌন্দর্যায়নের বিশেষ ব্যবস্থাও করতে বলা হয়েছে।
মহালয়ার দিন সূর্যোদয়ের বহু আগেই অর্থাৎ ভোররাত থেকেই গঙ্গার ঘাটে পুণ্যার্থীদের ঢল নামে। তাই ভোরের অন্ধকার দূর করতে ঘাট এবং সংযোগকারী রাস্তাগুলিতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। শুধু ঘাট চত্বরই নয়, নদীর পাড়, যাতায়াতের পথ এবং গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গাতেও ঝকঝকে আলোর বন্দোবস্ত রাখতে হবে। পুণ্যার্থীদের নাগরিক সুবিধার কথা মাথায় রেখে গুরুত্বপূর্ণ ঘাটগুলিতে বিশুদ্ধ পানীয় জল এবং ব্যবহারযোগ্য শৌচাগারের সুব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি যত্রতত্র আবর্জনা জমা রোধ করতে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন বসানোর কথা বলা হয়েছে।
মহালয়ার ভোরে বিপুল জনজোয়ারের কথা মাথায় রেখে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। দুর্ঘটনা এড়াতে ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ঘাটগুলিতে পর্যাপ্ত ব্যারিকেড বসাতে হবে। প্রবেশ ও প্রস্থান পথগুলিতেও পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হবে। এই সমস্ত পরিকল্পনা সঠিকভাবে কার্যকর করতে পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় পুরসভা, সেচ ও জলপথ দফতর সহ সংশ্লিষ্ট সমস্ত বিভাগকে নিয়ে একটি যৌথ সমন্বয় বজায় রাখতে বলা হয়েছে। শুধু নির্দেশ দিয়েই দায়িত্ব শেষ করা হয়নি, মহালয়ার আগে সমস্ত ঘাটের প্রস্তুতি ব্যক্তিগতভাবে খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলাশাসক এবং কলকাতা পুরসভার কমিশনারকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ঘাটের জন্য আলাদা ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করে কাজের নিয়মিত অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে, যাতে মহালয়ার পুণ্যলগ্নে কোনো রকম ত্রুটি না থাকে।