মহানায়কের জন্মশতবর্ষে বসছে তারার মেলা! চারদিনের মেগা উৎসবে টলিপাড়ায় কীসের এত তোলপাড়?

বাঙালির আবেগ, নস্টালজিয়া আর সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা মহানায়ক উত্তমকুমারের বহু প্রতীক্ষিত জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার দিনব্যাপী এক বিশেষ বর্ণাঢ্য উদযাপনের আয়োজন করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ, আইএনসিএ এবং টালিগঞ্জ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির যৌথ উদ্যোগে সম্পূর্ণ নন্দনকেন্দ্রিক এই বিশেষ মহোৎসবে মহাসমারোহে উঠে আসবে মহানায়কের বর্ণময় অভিনয়জীবন ও বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর অসামান্য অবদানের নানা সোনালী দিক।

নন্দনে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে বিশিষ্ট অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান, “এই আয়োজনের উদ্দেশ্য কেবল গতানুগতিক স্মৃতিচারণ করা নয়, বরং আগামী প্রজন্মের কাছেও মহানায়ক উত্তমকুমারের চমৎকার কাজ ও তাঁর অসামান্য অবদানকে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়াই এর মূল লক্ষ্য।” তাঁর আবেগময় কথায়, আগামী একশো বছর পরেও যেন নতুন প্রজন্ম একই রকম শ্রদ্ধা ও উন্মাদনার সঙ্গে মহানায়কের জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপন করতে পারে, সেই সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যেই এই বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী এই প্রসঙ্গে বলেন, “উত্তমকুমার কেবল একজন সাধারণ অভিনেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটি সুনির্দিষ্ট সময়ের জীবন্ত প্রতীক, বাংলা চলচ্চিত্রের সর্বকালের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্র্যান্ড এবং বাঙালির প্রাণের আবেগের অন্য নাম।” মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের ঐকান্তিক উদ্যোগেই এই চার দিনের এই বিশেষ উদ্‌যাপনের আয়োজন সম্ভব হয়েছে বলে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

চার দিনের এই জমজমাট উৎসবের অন্যতম প্রধান ও বিশেষ আকর্ষণ হলো মহানায়কের সঙ্গে একসময়ে রুপালি পর্দায় অভিনয় করেছেন এমন বরেণ্য ও বর্ষীয়ান শিল্পীদের বিশেষ সম্মাননা জ্ঞাপন। এই দীর্ঘ সম্মাননা তালিকায় নাম রয়েছে মিঠুন চক্রবর্তী, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, মাধবী মুখোপাধ্যায়, লিলি চক্রবর্তী, বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়, দীপঙ্কর দে, রঞ্জিত মল্লিক, কল্যাণী মণ্ডল, প্রভাত রায়, রত্না ঘোষাল এবং বীরেশ চট্টোপাধ্যায়ের মতো কিংবদন্তি ব্যক্তিত্বদের। উৎসব চলাকালীন নন্দনের পাশাপাশি ঐতিহাসিক রাধা স্টুডিওতেও মহানায়ক অভিনীত নির্বাচিত কিছু ক্লাসিক ছবি প্রদর্শিত হবে। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শিশির মঞ্চে দুটি বিশেষ ও আকর্ষণীয় আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে—যার একটির বিষয়বস্তু ‘নায়িকাদের চোখে উত্তমকুমার’ এবং অন্যটি বিশিষ্ট পরিচালকদের অংশগ্রহণে ‘অভিনেতা উত্তমকুমার’।

মহোৎসবের একেবারে শেষ দিন অর্থাৎ আগামী ৬ সেপ্টেম্বর রবীন্দ্র সদনে বাংলা সিনেমা ও সঙ্গীত জগতের খ্যাতনামা শিল্পীদের পরিবেশনায় মহানায়কের জনপ্রিয় ছবির চিরসবুজ গানগুলি নিয়ে এক বিশেষ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি, উত্তমকুমারের এক স্মরণসভায় কিংবদন্তি পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের দেওয়া ঐতিহাসিক বক্তৃতার দুর্লভ রেকর্ডিংকে কেন্দ্র করে সন্দীপ রায়ের নির্মিত বিশেষ তথ্যচিত্রও প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। অভিনেতা ও বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ জানান, এই উদযাপনে বর্ষীয়ান সাংবাদিকদেরও যুক্ত করা হচ্ছে, যাঁরা উত্তমকুমারকে কাছ থেকে দেখেছেন এবং তাঁর কর্মজীবনের সাক্ষী থেকেছেন। অভিনেতা জিৎ ও যিশু সেনগুপ্ত এই বিশেষ উদ্যোগকে সর্বান্তকরণে স্বাগত জানিয়েছেন। আগামী ৩ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর মহানায়কের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে নন্দন ও শহরের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে এই বর্ণাঢ্য আয়োজন বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক স্বর্ণালী অধ্যায় হয়ে থাকবে বলেই মনে করছে গোটা টলিপাড়া।