মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতেই তল্লাশি? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে পুলিশের নাটকীয় অভিযান

শনিবার ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল কলকাতার কালীঘাটে। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে আচমকা হাজির হয় শালবনি থানার পুলিশ। অভিযানের গুরুত্ব ও নিরাপত্তার খাতিরে সঙ্গে ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশাল কনভয় এবং স্থানীয় কালীঘাট থানার পুলিশও। রাজনৈতিক মহলের খবর অনুযায়ী, তল্লাশির সময় বাড়ির ভেতরেই উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ঘটনার সূত্রপাত রবিবার ভোরে, যখন পুলিশি দল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের সামনে পৌঁছায়। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পুলিশ যখন বাড়ির ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে, তখন তারা প্রাথমিক বাধার সম্মুখীন হয়। এরপরই তালা ভেঙে পুলিশ ভেতরে প্রবেশ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুহূর্তের মধ্যে এলাকা ঘিরে ফেলে কেন্দ্রীয় বাহিনী, যা পরিস্থিতিকে আরও গম্ভীর করে তোলে। তবে এই স্পর্শকাতর অভিযান নিয়ে এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
সূত্রের খবর, শালবনি থানায় দায়ের করা একটি নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে। অভিযোগটি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক আপ্তসহায়কের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই পুলিশি অভিযান এবং তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে প্রাথমিক অনুমান। পুলিশের একাধিক দল এই তদন্তের অংশ হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় তৎপর রয়েছে।
এই আকস্মিক অভিযানে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যের অন্যতম হেভিওয়েট নেতার বাসভবনে পুলিশের এভাবে উপস্থিতি এবং তালা ভেঙে প্রবেশের অভিযোগ নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। তদন্তের স্বার্থে ঠিক কী কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। পুলিশি তল্লাশির এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতুহল ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এখন সকলের নজর পুলিশ প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং এই অভিযানের আসল রহস্য উন্মোচনের দিকে। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে আগামী কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।