মমতার দলের বিলবোর্ড সলতে পাকাতে এবার সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা! মামলা নিয়ে বড় নির্দেশ প্রধান বিচারপতির

রাজধানী থেকে রাজ্য রাজনীতি—ক্যামাক স্ট্রিটের দলীয় দফতর থেকে বিলবোর্ড খুলে দেওয়ার বিতর্কিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ চড়েছিল তুঙ্গে। এই মামলায় রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে একচুলও জমি ছাড়তে নারাজ কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। তবে সোমবার দেশের শীর্ষ আদালত এই মামলার শুনানিতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, যেহেতু এই সংক্রান্ত মামলাটি ইতিমধ্যে কলকাতা হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে, তাই এই বিষয়ে সমস্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হাইকোর্টই গ্রহণ করবে। ফলে আইনি লড়াইয়ের এই পর্যায়ে সুপ্রিম কোর্ট নতুন করে কোনো হস্তক্ষেপ করতে নারাজ।
এদিন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ডি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, যেহেতু বিষয়টি হাইকোর্টের বিচারাধীন, তাই সেখানেই এর আইনি ফয়সালা হবে। এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজা বসুচৌধুরী কালীঘাট তৃণমূলের করা আবেদনে কোনো ধরনের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিতে অস্বীকার করেছিলেন। হাইকোর্টের যুক্তি ছিল, যেহেতু বিতর্কিত বিলবোর্ড ইতিমধ্যে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাই আদালতের পক্ষে এই মুহূর্তে কোনো অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া সমীচীন নয়। তাছাড়া, এখনই জোর করে আগের জায়গায় বিলবোর্ড বসিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলে তা প্রকারান্তরে চূড়ান্ত মামলার রায়ের সমতুল্য হয়ে দাঁড়াবে। হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে গিয়েই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল। দলটির পক্ষে সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করতে হাজির হন দেশের প্রবীণ ও বিশিষ্ট আইনজীবী কপিল সিবাল। তিনি আদালতের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের জোরালো আর্জি জানান। কিন্তু শীর্ষ আদালত শেষ পর্যন্ত মামলাটি হাইকোর্টেই ফেরত পাঠাল।
কালীঘাট তৃণমূলের মূল অভিযোগ ছিল, কলকাতা পুরসভা অত্যন্ত হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে এবং চরম তাড়াহুড়ো করে তাদের দলীয় বিলবোর্ডটি সরিয়ে দিয়েছে। এমনকি, এই বিষয়ে কোনো যথাযথ কারণ দর্শানোর বা নিজেদের বক্তব্য রাখার সুযোগটুকুও তাদের দেওয়া হয়নি। তাই বিলবোর্ড অপসারণের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত সমস্ত পুর আধিকারিক ও পুলিশকর্মীদের নাম, পদমর্যাদা এবং তাঁদের নিজ নিজ দফতরের পরিচয় সর্বসমক্ষে প্রকাশের জোরালো দাবি তুলেছে তৃণমূল শিবির। একই সঙ্গে মমতাপন্থী তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আর্জি জানানো হয়েছে যে, অবিলম্বে ওই বিলবোর্ডটি আগের মতো নির্দিষ্ট জায়গাতেই পুনস্থাপন করা হোক।
উল্লেখ্য, শুধুমাত্র হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টেই নয়, এই আইনি লড়াইয়ের জল গড়িয়েছে কলকাতার সিটি সিভিল কোর্ট পর্যন্ত। গত ২৫ অগস্ট ক্যামাক স্ট্রিটের পার্টি অফিসের জায়গা খালি করার জন্য যে নোটিশ জারি করা হয়েছিল, তার বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে নিম্ন আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল। সেই মামলার প্রেক্ষিতে সিটি সিভিল কোর্ট আগামী ১ অক্টোবর পর্যন্ত উক্ত নোটিশের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে। পাশাপাশি, আদালতের বিচারক এই বিবাদের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত পক্ষকে নিজেদের লিখিত বক্তব্য ও তথ্যপ্রমাণ জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। সবমিলিয়ে, ক্যামাক স্ট্রিটের বিলবোর্ড সরানোর এই আইনি লড়াই এখন কলকাতা হাইকোর্টের এজলাসেই নতুন মোড় নিতে চলেছে।