“কম দামে আর পেঁয়াজ বেচব না!” ঘরে বসেই লাখ টাকা কামাচ্ছেন পূর্ব বর্ধমানের চাষিরা, দেখুন জাদুকরী কায়দা

আলুর ক্ষেত্রে হিমঘরে ফসল রেখে যখন চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ এবং লোকসানের ছবি স্পষ্ট, তখন ঠিক তার উল্টো চিত্র ধরা পড়েছে পেঁয়াজ চাষের ক্ষেত্রে। পূর্ব বর্ধমানের কালনা মহকুমার লক্ষ্মীপুর ও রামকৃষ্ণপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষকরা জমি থেকে পেঁয়াজ তোলার পর তা সরাসরি পাইকারি বাজারে না পাঠিয়ে নিজেদের বাড়িতেই সুকৌশলে তৈরি করছেন বাঁশের মাচা এবং পেঁয়াজের গোলা। আধুনিক ও ঐতিহ্যগত এই দেশি পদ্ধতিতে ঝুটি বেঁধে সেই মাচায় পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে রাখা হচ্ছে দীর্ঘ এক বা একাধিক মাস। এর ফলে মরশুমের সময় জলের দরে ফসল বিক্রি করার চরম বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি পেয়ে, নিজেদের ইচ্ছামতো বাজারদর বৃদ্ধির অপেক্ষা করতে পারছেন বাংলার দূরদর্শী কৃষকরা।
পূর্ব বর্ধমান জেলায় প্রতি বছর প্রায় ৩২০০ হেক্টর জমিতে প্রায় ৪৮ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়ে থাকে। অতীতে উন্নত সংরক্ষণের সঠিক পরিকাঠামো না থাকার কারণে ফসল তোলার পরপরই কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হতেন কৃষকরা। কিন্তু বর্তমান সময়ে বাড়িতেই নিজ উদ্যোগে তৈরি বাঁশ ও খড়ের মাচায় পেঁয়াজ রেখে কয়েক মাস পর তা তিনগুণেরও বেশি দামে বিক্রি করছেন তাঁরা। মরশুমের সময় বাজারে যেখানে কেজিপ্রতি মাত্র ৬ থেকে ১০ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সংরক্ষণ করে এখন সেই একই পেঁয়াজ ২৬ থেকে ২৮ টাকা কেজি দরে বাজারে বিক্রি করে চওড়া হাসি হাসছেন চাষিরা। শুধু স্থানীয় বাজারেই নয়, পূর্ব বর্ধমানের এই উৎকৃষ্ট মানের পেঁয়াজ এখন বাংলার গণ্ডি পেরিয়ে বিহার, উত্তরপ্রদেশ এমনকি সুদূর অসমের বাজারেও নিয়মিত সরবরাহ করা হচ্ছে। স্থানীয় চাষি কুদুস শেখ ও মুজিবুল শেখদের মতে, এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে তাঁরা অর্থনৈতিকভাবে দারুণ লাভবান হচ্ছেন।
তবে এই ঘরোয়া সংরক্ষণ ব্যবস্থা বা গোলা তৈরি করাও চাট্টিখানি কথা নয়। একটি মজবুত পেঁয়াজের গোলা তৈরি করতে প্রায় আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়ে যায়। যদিও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে গোলা তৈরিতে কিছু ভর্তুকি দেওয়া হয়, তবুও কৃষকদের দাবি এই আর্থিক সহায়তার পরিমাণ আরও বাড়ানো হোক। তাঁদের জোরালো দাবি, সরকারের পক্ষ থেকে যদি মোট খরচের অন্তত ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি দেওয়া হয়, তবে আরও অনেক গরিব কৃষক নিজেদের বাড়িতেই এই পেঁয়াজ সংরক্ষণের আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তুলতে পারবেন। এতে মরশুমের শুরুতে কম দামে ফসল বিক্রির যন্ত্রণা চিরতরে ঘুচবে এবং চাষিদের ঘরে আসবে দ্বিগুণ মুনাফা।