“নবমীতে কচি পাঁঠার মাংস খাব, নিমন্ত্রণ করবেন তো?” দুর্গাপুজোয় আমিষ বিতর্ক নিয়ে যা বললেন শমীক!

বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই নানা আনন্দ-উল্লাস দেখা যায়, তবে এবার পুজোয় আমিষ খাবার খাওয়া নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে চায়ের কাপের ঝড় রীতিমতো চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। গত কিছুদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ঘুরে বেড়াচ্ছে নানা জল্পনা। শোনা যাচ্ছিল, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পক্ষ নাকি পুজোয় আমিষ খাবার বিক্রি এবং মণ্ডপের বাইরে আমিষ স্টল বসানোর ওপর কিছু নির্দেশিকা জারি করতে পারে। যদিও রাজ্য সরকার কিংবা নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্র থেকে এই খবরের সত্যতা মেলেনি। তবে সম্প্রতি এই বিতর্ককে উসকে দিয়েছেন বাগেশ্বর ধামের পীঠাধীশ্বর ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী। দুর্গাপুজোর সময়ে আমিষ খাবার খাওয়ার বিরোধিতা করে তিনি একটি মন্তব্য করায় দেশজুড়ে শুরু হয় নতুন বিতর্ক। ঠিক এই আবহেই পুজোয় আমিষ খাওয়া নিষিদ্ধ হওয়া নিয়ে কড়া ভাষায় মুখ খুললেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

আজ এক সাংবাদিক বৈঠকে এই প্রসঙ্গে স্পষ্ট ভাষায় শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “নবমীর দিন বাঙালি সাধারণত পাঁঠার মাংস খায়, অষ্টমীর দিন খায় লুচি… সেটাই খাবে।” এরপর হাসিমুখেই তিনি চ্যালেঞ্জের সুরে যোগ করেন, “আমার তো স্ত্রী নেই, বাবা-মাও প্রয়াত হয়েছেন। না হলে আমি আমার বাড়িতেই নিমন্ত্রণ করে আপনাদের কচি পাঁঠার মাংস খাওয়াতাম। কিন্তু আপনি যদি আমায় নবমীর দিন পাঁঠার মাংস খাওয়ার নিমন্ত্রণ করেন, আমি সানন্দে যাব। শুধু আমি একা নই, আমার সঙ্গে অনেক বিজেপি কর্মীরাও সেই নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে যাবেন।”

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাগেশ্বর ধামের ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর পুজোয় আমিষ বর্জনের পক্ষে দেওয়া মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল শোরগোল শুরু হয়েছে। সেই প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বাগেশ্বর বাবা অন্য পৃথিবীর মানুষ, ওঁর সারা দেশজুড়ে বহু ভক্ত রয়েছে। আমিও ব্যক্তিগতভাবে ওঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম, ওঁর সঙ্গে দেখা করে খুব ভাল লেগেছে, ওঁর মধ্যে আলাদা একটা জ্যোতি রয়েছে। ওঁর সঙ্গে দেখা করলাম, হাত জোড় করে নমস্কার জানালাম, উনিও প্রতি নমস্কার করলেন। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, পশ্চিমবঙ্গে কে কী খাবেন আর কে কী খাবেন না… সেই সিদ্ধান্ত কেউ নির্ধারণ করে দিতে পারেন। একজন সাধু বা সন্ন্যাসী হিসেবে তিনি নিজের ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করতেই পারেন। আজকাল তো সারা পৃথিবীতেই বহু মানুষ নিরামিষভোজী হয়ে যাচ্ছেন, কেউ কেউ আবার ভেগান লাইফস্টাইল বেছে নিচ্ছেন—এসব বিশ্বজুড়েই চলতে থাকবে। কিন্তু তাই বলে উনি কী খাবেন আর আমরা কী খাব না, সেটা উনি ঠিক করে দেবেন নাকি? আপনারা এমনভাবে কথাগুলো বলছেন, যেন মনে হচ্ছে উনি ভারতীয় জনতা পার্টির কোনো উচ্চপদে বসে আমাদের রুটিন ঠিক করে দিচ্ছেন!”

শমীক ভট্টাচার্যের এই খোলামেলা ও স্পষ্টভাষী মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে বাঙালির খাদ্যাভ্যাস ও ধর্মীয় ভাবাবেগকে সামনে রেখে এই বিতর্ক এখন কোন মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।