“মমতার থেকে বড় বন্ধু বিজেপির কেউ নেই!” দলীয় বিবাদের মাঝেই বিস্ফোরক মদন মিত্র!

পশ্চিমবঙ্গ রাজনৈতিক মহলে এই মুহূর্তে সবচেয়ে চর্চিত বিষয় হয়ে উঠেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং গোপন রাজনৈতিক ‘সেটিং’ তত্ত্ব। পুরভোটের প্রাক্কালে একদিকে যখন ‘কালীঘাট তৃণমূল’ বনাম ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ তরজা তুঙ্গে, ঠিক তখনই দলের অন্দরের এক বিস্ফোরক মন্তব্য পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ নতুন মোড় দিয়েছে। কামারহাটির বিধায়ক তথা একদা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতি ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মদন মিত্র এমন কিছু চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন, যা সরাসরি শাসক শিবিরের ভিত্তিমূলে নাড়া দিয়েছে।

মদন মিত্র প্রকাশ্যেই অভিযোগ করেছেন যে, বাংলার রাজনীতিতে বিজেপির সঙ্গে গোপন সেটিং বা সমঝোতার তত্ত্বের মূল প্রবক্তা খোদ সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সরাসরি দাবি, রাজ্যে এত দুর্নীতির পাহাড় জমে থাকলেও শেষ পর্যন্ত আইনি বা রাজনৈতিক কোনো বড় পদক্ষেপ দেখা যায় না, কারণ শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বিজেপির একটি গভীর সেটিং রয়েছে। মদন মিত্র অত্যন্ত জোরালো ভাষায় বলেন যে, বিজেপি ও তৃণমূলের এই সম্পর্কটি কেবলই লোকদেখানো, যাকে তিনি ‘উপরে কুস্তি আর রাতে দোস্তি’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিকভাবে বাঁচিয়ে রাখতে বিজেপি সবসময় সচেষ্ট থাকে, কারণ মমতার চেয়ে বড় বন্ধু বিজেপির এ দেশে আর কেউ নেই।

এই বিস্ফোরক মন্তব্যের নেপথ্যে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য টেনে এনেছেন এই অভিজ্ঞ বিধায়ক। এর আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশযাত্রা এবং রাজনৈতিক বোঝাপড়া নিয়েও তিনি চাঞ্চল্যকর দাবি করেছিলেন। মদন মিত্রের অভিযোগ, দিনের পর দিন সাধারণ মানুষের চোখের সামনে মিথ্যার আবরণ তৈরি করে এক কাল্পনিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। যদি গত ১৫ বছর ধরে বর্তমান সুপ্রিমো ক্ষমতায় না থাকতেন, তবে এই রাজ্যে বিজেপি আরও দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় আসতে পারত না। এমনকি, তীব্র কটাক্ষ করে তিনি এও বলেছেন যে, সমগ্র ভারতবর্ষে বিজেপির যদি কেউ প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট বা চিফ ইলেকশন এজেন্ট থেকে থাকেন, তবে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই।

মদন মিত্রের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে চরম শোরগোল শুরু হয়েছে। একদিকে যখন কালীঘাট ও ঋতব্রত শিবির একে অপরকে বিজেপির দালাল বা বি-টিম বলে আক্রমণ শানাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে দলের ভেতরেই এমন প্রকাশ্য বিদ্রোহ শাসক শিবিরের অন্দরে অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং একের পর এক গুরুতর অভিযোগ কীভাবে সামাল দেবে দলীয় নেতৃত্ব, এখন সেটাই দেখার বিষয়।