মন্ত্রী ঘনিষ্ঠ সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে অপহরণ ও টাকা চাওয়ার অভিযোগ! চাঞ্চল্য মালদহে

রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ‘দাদাগিরি’র অভিযোগ প্রায়শই ওঠে। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে মন্ত্রী ঘনিষ্ঠ এক সিভিক ভলান্টিয়ারের নাম। রাজ্যের মন্ত্রী তাজমুল হোসেনের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত ওই সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে সালিশি সভার নামে টাকা চাওয়া এবং অপহরণের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। যদিও পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করছে না বলেও অভিযোগ।
ঘটনার সূত্রপাত মালদহের নারায়ণপুর এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম রসুলের সঙ্গে বিহারের এক তরুণীর বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক অশান্তি লেগে ছিল। সেই বিবাদ মেটাতে গত ২৩শে অগস্ট একটি সালিশি সভার আয়োজন করা হয়। এই সভার নেতৃত্বে ছিলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা এবং হরিশ্চন্দ্রপুর থানার সিভিক ভলান্টিয়ার তারিকুল ইসলাম, যাঁর স্ত্রীও একজন পঞ্চায়েত সদস্যা।
অভিযোগ, সালিশিতে কোনো সমাধান না হওয়ায় তারিকুল এবং গোলাম রসুলের স্ত্রীর বাপের বাড়ির লোকজন মিলে গোলাম রসুলকে থানায় নিয়ে যাওয়ার নাম করে অপহরণ করে। এরপর তার পরিবারের কাছে দুই লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাঁকে আটকে রাখার হুমকি দেওয়া হয়। পরে পুলিশ গোলাম রসুলকে বিহার থেকে উদ্ধার করে। অভিযোগ উঠেছে, এর পরেও তারিকুল নাকি গোলাম রসুলের পরিবারকে অভিযোগপত্র তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছেন। এমনকি, রাতের অন্ধকারে তাঁর দোকানে আগুন দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে ওই সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে চলছে তীব্র তরজা। জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রূপেশ আগরওয়াল কটাক্ষ করে বলেছেন, “রাজ্যে আইনের শাসন নেই। তৃণমূলের কর্মীরাও তালিবানিরাজ থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না।”
তবে জেলা তৃণমূলের সহসভাপতি শুভময় বসু এই অভিযোগকে অস্বীকার করেছেন। তাঁর মতে, “তৃণমূলকে বদনাম করার জন্য বিজেপি এবং কংগ্রেস-সিপিএমের মদতে এই ধরনের মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে।”
অন্যদিকে, অভিযুক্ত তারিকুলের পক্ষ নিয়ে মন্ত্রী তাজমুল হোসেন বলেছেন, “অভিযোগ থাকতেই পারে, কিন্তু তার প্রমাণ থাকতে হবে। বাকিটা পুলিশ দেখবে।” তবে এই ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য এবং ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।