মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার পাহাড়, সবচেয়ে বেশি নাম কোন দলের, চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট

দেশের ৪৭ শতাংশ মন্ত্রীর বিরুদ্ধেই ফৌজদারি মামলা রয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই তথ্য উঠে এসেছে অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (ADR)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্টে। এই মন্ত্রীদের মধ্যে খুন, অপহরণ এবং মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার মন্ত্রী-সাংসদদের জন্য নতুন আইন আনার কয়েক দিনের মধ্যেই এই রিপোর্ট প্রকাশিত হল, যেখানে বলা হয়েছে, গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগে টানা ৩০ দিন আটক বা গ্রেফতার হলে তাঁদের পদচ্যুত করা হবে।
কোন দলের কত শতাংশ মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা?
ADR-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশের ৬৪৩ জন মন্ত্রীর মধ্যে ৩০২ জনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর মামলার সংখ্যা ১৭৪। রিপোর্টে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে মামলার পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে:
তেলুগু দেশম পার্টি (TDP): সবচেয়ে বেশি মামলার সংখ্যা এই দলের মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে। ২৩ জন মন্ত্রীর মধ্যে ২২ জনের বিরুদ্ধেই মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ১৩টি গুরুতর অপরাধের।
ডিএমকে (DMK): ৩১ জন মন্ত্রীর মধ্যে ২৭ জনের (প্রায় ৮৭%) বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ রয়েছে।
কংগ্রেস: ৪টি রাজ্যে ক্ষমতায় থাকা কংগ্রেসের ৪৫ জন মন্ত্রীর (৭৪%) বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে।
আম আদমি পার্টি (AAP): ১৬ জন মন্ত্রীর মধ্যে ১১ জন (৬৯%) ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি।
বিজেপি: ৩৩৬ জন মন্ত্রীর মধ্যে ১৩৬ জন (৪০%) ফৌজদারি মামলার কথা ঘোষণা করেছেন।
তৃণমূল কংগ্রেস: ৪০ জন মন্ত্রীর মধ্যে ১৩ জনের (৩৩%) বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা: ৭২ জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মধ্যে ২৯ জনের (৪০%) বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।
ধনীদের তালিকায় কারা?
ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি মন্ত্রীদের আর্থিক সম্পদের চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে রিপোর্টে। মন্ত্রীদের গড় সম্পদের পরিমাণ ৩৭.২১ কোটি টাকা।
শীর্ষে চন্দ্রশেখর পেম্মাসানি: দেশের সবচেয়ে ধনী মন্ত্রী হলেন TDP-র চন্দ্রশেখর পেম্মাসানি। তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৫৭০৫ কোটি টাকারও বেশি।
শীর্ষ ১০: দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন কর্ণাটকের মন্ত্রী ডি কে শিবকুমার (১৪১৩ কোটি টাকা)। এরপরই রয়েছেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু (৯৩১ কোটি)। এছাড়াও তালিকায় আছেন নারায়ণ পোঙ্গুরু, নারা লোকেশ এবং জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার মতো মন্ত্রীরা।
সবচেয়ে কম সম্পদ: ত্রিপুরার মন্ত্রী শুক্লচরণ নোয়াটিয়া ২ লক্ষ এবং পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা ৩ লক্ষ টাকার সম্পদের কথা ঘোষণা করেছেন।
এই রিপোর্ট ভারতের রাজনৈতিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে, যেখানে জনগণের প্রতিনিধিরাই অপরাধের অভিযোগের মুখোমুখি।