কেন্দ্রীয় সরকার মনরেগা (MGNREGA) বিলের পরিবর্তে ‘বিকাশিত ভারত-জি রাম জি বিল-২০২৫’ চালু করার সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করছে কংগ্রেস দল। কংগ্রেস এই পদক্ষেপকে মহাত্মা গান্ধীর আদর্শের অপমান বলে অভিহিত করেছে এবং অভিযোগ করেছে যে প্রধানমন্ত্রী মোদী জাতির পিতার ধারণা এবং দরিদ্রদের অধিকারকে ঘৃণা করেন।
কংগ্রেসের কর্মসূচি:
এই ইস্যুতে চলমান বাকযুদ্ধ এবার রাস্তায় নামতে চলেছে। কংগ্রেস দল দেশজুড়ে বড় কর্মসূচি ঘোষণা করেছে:
-
১৭ ডিসেম্বর: সারা দেশের জেলা সদর দপ্তরে বিক্ষোভের ঘোষণা।
-
২৮ ডিসেম্বর (কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা দিবস): সমস্ত মণ্ডল এবং গ্রামে মহাত্মা গান্ধীর প্রতিকৃতি সহ বিশেষ কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে শ্রমের মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং কাজের অধিকারের প্রতি কংগ্রেস দলের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হবে।
কংগ্রেসের অভিযোগ ও বার্তা:
কংগ্রেস নেতা কেসি ভেনুগোপাল এই বিষয়ে জানিয়েছেন যে এই জনবিরোধী আইন এবং বাপুর উত্তরাধিকারের উপর সরাসরি আক্রমণের প্রতিবাদে কংগ্রেস লড়াই করবে।
“মনরেগা একটি ঐতিহাসিক আইন যা মানুষকে কাজের অধিকার দিয়েছে, শ্রমের মর্যাদা সমুন্নত রেখেছে এবং ভারতজুড়ে লক্ষ লক্ষ গ্রামীণ পরিবারকে জীবিকা নির্বাহের নিরাপত্তা প্রদান করেছে। আমাদের সংগ্রাম কোনো সাধারণ বিলের বিরোধিতা করার জন্য নয়; এটি একটি কষ্টার্জিত অধিকার রক্ষা করার এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য,” বলেন ভেনুগোপাল।
রাহুল গান্ধীর তীব্র আক্রমণ:
রাহুল গান্ধীও এক্স (পূর্বে টুইটার)-এ পোস্টে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে তীব্র আক্রমণ করেছেন।
“মোদীর দুটি জিনিসের প্রতি তীব্র ঘৃণা: মহাত্মা গান্ধীর ধারণা এবং দরিদ্রদের অধিকার। মনরেগা হল মহাত্মা গান্ধীর গ্রাম স্বায়ত্তশাসনের স্বপ্নের জীবন্ত প্রতিমূর্তি,” লেখেন রাহুল গান্ধী।
তিনি অভিযোগ করেন, মনরেগা কোভিড-১৯ মহামারীর সময় লক্ষ লক্ষ গ্রামবাসীর অর্থনৈতিক সুরক্ষা ঢাল হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে, তবে প্রধানমন্ত্রী মোদী গত দশ বছর ধরে এই প্রকল্পকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন এবং এখন তা বাতিল করতে বদ্ধপরিকর।
মনরেগার মূলনীতি:
রাহুল গান্ধী মনরেগার তিনটি মৌলিক নীতির ওপর জোর দিয়েছেন: ১. কর্মসংস্থানের অধিকার: যে কেউ কাজ চাইবে সে তা পাবে। ২. গ্রামের স্বায়ত্তশাসন: গ্রামগুলির নিজস্ব অগ্রগতি নির্ধারণের স্বাধীনতা রয়েছে। ৩. অর্থের যোগান: কেন্দ্রীয় সরকার সম্পূর্ণ শ্রম খরচ এবং উপকরণের খরচের ৭৫ শতাংশ বহন করবে।
কংগ্রেস ঘোষণা করেছে, মহাত্মা গান্ধীর চেতনায় এবং ভারতের দরিদ্রতম মানুষের সুরক্ষার জন্য তারা এই লড়াই চালিয়ে যাবে।