মধ্যপ্রাচ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের তিন বছর পূর্ণ, ইসরায়েলি হামলায় লেবানন ও ইরানেও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, জানুন সর্বশেষ আপডেট

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর শুরু হওয়া বহু-মুখী ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের তিন বছর পূর্ণ হওয়ার প্রাক্কালে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) তাদের সামরিক অভিযানের এক ব্যাপক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের অতর্কিত হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সংঘাতে প্রায় ১,২০০ ইসরায়েলি নিহত এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল। এর জবাবে ইসরায়েল হামাস নির্মূল ও জিম্মি উদ্ধারে সর্বাত্মক সামরিক অভিযান শুরু করে। পরবর্তী সময়ে এই যুদ্ধ লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি এবং সরাসরি ইরানের সঙ্গে ত্রিমুখী ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে রূপ নেয়।
আইডিএফের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গাজা, লেবানন, সিরিয়া, ইরান এবং ইয়েমেন মিলিয়ে প্রায় ১,০০,০০০ লক্ষ্যবস্তুতে বিমান ও স্থল হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে একাই গাজা উপত্যকায় ৬৫,০০০ এবং লেবানন ও সিরিয়ায় ২৮,০০০ লক্ষ্যবস্তু গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের ৪,৫০০ এবং ইয়েমেনের ৮০টি সামরিক ও কৌশলগত অবস্থানে আঘাত হানা হয়েছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, চলমান এই সংঘাতে গাজায় মোট মৃতের সংখ্যা ৭৪,২০০ ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে গত বছরের যুদ্ধবিরতির পর থেকে নিহত হয়েছেন ১,৪০০ জনেরও বেশি। আইডিএফের দাবি, নিহতদের মধ্যে প্রায় ২৪,০০০ হামাস যোদ্ধা রয়েছেন এবং তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব ও কমান্ডারদের একটি বিশাল অংশকে নিকেশ করা হয়েছে।
এদিকে, যুদ্ধবিরতি এবং দীর্ঘমেয়াদী সামরিক অভিযানের ফলে গাজা উপত্যকার অভ্যন্তরে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যুদ্ধ শুরুর সময়কার প্রাথমিক ৫৩ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণের দাবি থেকে বেড়ে বর্তমানে প্রায় ৬৩ শতাংশ ভূখণ্ড আইডিএফের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পাশাপাশি কৌশলগত সুরক্ষার জন্য সেখানে প্রায় ৪০টি স্থায়ী সেনা চৌকি স্থাপন করা হয়েছে। অন্যদিকে, পশ্চিম তীরেও অভিযান অব্যাহত রেখে ৪৫,য়েড-এরও বেশি ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। আন্তর্জাতিক মহলের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এবং এর বিধ্বংসী মানবিক পরিণতি সমগ্র বিশ্বকে গভীর উদ্বেগের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।