বিজেপির রাজ্যসভা তালিকায় বড় কোপ! টিকিট না পেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘টাটা বাই-বাই’ নেতার, চরম অস্বস্তিতে দল

উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে রাজ্যসভা প্রার্থীদের নতুন তালিকা প্রকাশ করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। আর এই তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই শাসক শিবিরের অন্দরে তীব্র অসন্তোষ ও বিদ্রোহের সুর চড়তে শুরু করেছে। প্রথমে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা মোহনলালগঞ্জের প্রাক্তন সাংসদ কৌশল কিশোরের পরিবার প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেয়। এবার আওনলার প্রাক্তন সাংসদ ধর্মেন্দ্র কাশ্যপের রহস্যময় ‘বাই-বাই’ পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হওয়ায় রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গেছে।

বিজেপি উত্তরপ্রদেশের ১০টি রাজ্যসভা আসনের মধ্যে মোট আটজন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। নতুন এই তালিকায় ধর্মপাল সিং, রাধাকান্ত ওঝা, প্রকাশ পাল, বিদ্যাসাগর সোনকর, গোপী কৃষ্ণ পান্ডে, প্রিয়াঙ্কা সিং রাওয়াত, রাম প্রতাপ সিং চৌহান এবং শ্রুতি গাঙ্গোয়ারের নাম স্থান পেয়েছে। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বর্তমান সদস্য হরদীপ সিং পুরী এবং বিএল ভার্মাসহ বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট ও পুরোনো মুখকে এবারের তালিকা থেকে সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের পোড়খাওয়া নেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

তালিকা প্রকাশের পরপরই প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কৌশল কিশোরের ছেলে তথা বিজেপির এসসি মোর্চার রাজ্য সহ-সভাপতি বিকাশ কিশোর সোশ্যাল মিডিয়ায় বিস্ফোরক বার্তা দিয়ে লেখেন, “এমন পরিবারে থাকা উচিত নয় যেখানে বাবা-মাকে সম্মান ও মর্যাদা দেওয়া হয় না।” এই পোস্টের পরই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে যে কৌশল কিশোর পরিবার হয়তো শীঘ্রিই গেরুয়া শিবির থেকে নিজেদের পুরোপুরি দূরত্ব বজায় রাখবে। পাশাপাশি, আওনলার প্রাক্তন সাংসদ ধর্মেন্দ্র কাশ্যপ ফেসবুক পোস্টে মাত্র দুটি শব্দ লিখে রাজনৈতিক পারদ চড়িয়ে দিয়েছেন—”টাটা বাই-বাই।” যদিও তিনি সরাসরি দল ছাড়ার ঘোষণা করেননি, তবে তাঁর এই পোস্টের টাইমিং নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের রাজ্যসভা তালিকায় প্রায় সম্পূর্ণ নতুন মুখ এনে সামাজিক সমীকরণের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে বিজেপি। তালিকায় ৩ জন ওবিসি, ২ জন দলিত, ২ জন ব্রাহ্মণ এবং ১ জন রাজপুত প্রার্থীকে রাখা হয়েছে। তবে পুরনোদের অবমূল্যায়ন করে এভাবে টিকিট বন্টন করায় বিক্ষুব্ধ নেতারা প্রকাশ্যেই দলের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ শুরু করেছেন। দলীয় নেতৃত্বের এই কড়া সিদ্ধান্তে উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক ময়দানে ভোটের আগে বড় ধরনের ভাঙন ধরতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।