মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা! হরমুজ প্রণালীতে নিকারাগুয়ার পতাকাবাহী ট্যাঙ্কারে ড্রোন হামলা, নিখোঁজ ২ ভারতীয় নাবিক

পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী এবং ওমান উপকূলে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর একের পর এক প্রাণঘাতী হামলায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত। সম্প্রতি ওমানের সোহার বন্দর সংলগ্ন নোঙ্গর এলাকায় ‘এমটি পেট্রো ডলফিন’ নামক একটি নিকারাগুয়ার পতাকাবাহী ট্যাঙ্কারে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালানো হয়। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই জাহাজে মোট ১১ জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত ছিলেন। এই আকস্মিক হামলার ফলে ২ জন ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন এবং বাকি ৯ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
কেন্দ্রীয় নৌপরিবহণ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল জানিয়েছেন, রবিবার সংঘটিত এই হামলার পর ওমানের স্থানীয় কোস্ট গার্ডের সহায়তায় নিখোঁজ নাবিকদের উদ্ধারে জোরকদমে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। ওমান সরকারের সঙ্গে ভারত সরকার প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রেখে চলেছে। পাশাপাশি, মাস্কাটে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসও পুরো পরিস্থিতির উপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। এদিকে, ‘ফরওয়ার্ড সেমেনস ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া’ (FSUI) প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ড্রোন আঘাত হানার পর জাহাজে ভয়াবহ আগুন জ্বলতে দেখা গিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
উল্লেখ্য, রবিবারই হরমুজ প্রণালীতে ‘এম/টি ভালথেরা’ নামের অন্য একটি ট্যাঙ্কার হামলার শিকার হয়, যদিও সেটিতে থাকা ১১ জন ভারতীয় নাবিক অক্ষত রয়েছেন। এমনকি গত সপ্তাহে পানামার পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজেও একই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছিল। বাণিজ্যিক জাহাজ ও নিরপরাধ নাবিকদের ওপর বারংবার এই ধরনের সশস্ত্র আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক। একটি সরকারি বিবৃতিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিরাপদ নৌচলাচল বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি এবং এ ধরনের প্রাণঘাতী হামলা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া দরকার। কূটনীতি এবং আলোচনার মাধ্যমেই কেবল পশ্চিম এশিয়ার এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা প্রশমিত হতে পারে বলে জোরালো দাবি জানিয়েছে নয়াদিল্লি।