সিজেপির আন্দোলনে দৈনিক ১০০ ডলারের লোভ! বাংলার কলেজ পড়ুয়াদের ফাণ্ডিংয়ের চাঞ্চল্যকর টোপ

রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোরগোল ফেলে দিয়ে এবার সিজেপি (CJP) আন্দোলনের নেপথ্যে বিদেশি ফাণ্ডিং এবং আর্থিক প্রলোভনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে আনলেন দুই বিজেপি বিধায়ক। আরামবাগে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে দাবি করা হয়েছে যে, সিজেপির এই বিতর্কিত আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার জন্য প্রান্তিক এলাকার কলেজ পড়ুয়াদের মোটা অঙ্কের টাকার টোপ দেওয়া হচ্ছে। ভারতীয় মুদ্রায় নয়, একেবারে মার্কিন ডলারে এই পেমেন্ট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে।

রবিবার সন্ধ্যায় আরামবাগের বিধায়ক হেমন্ত বাগ এবং পুড়শুড়ার বিধায়ক বিমান ঘোষ যৌথভাবে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আনেন। তাঁদের দাবি, সম্প্রতি পুড়শুড়া বিধানসভা এলাকার এক কলেজ পড়ুয়ার ফোনে আসা কিছু মেসেজ এবং কথোপকথনের স্ক্রিনশট তাঁদের হাতে এসেছে। সেই সূত্রেই জানা গিয়েছে যে, ভারত-বিরোধী এবং নাশকতামূলক কার্যকলাপে যুবসমাজকে ব্যবহার করার জন্য বিদেশ থেকে বিপুল অর্থ পাঠানো হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সিজেপির আন্দোলনে যোগ দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে দৈনিক ১০০ ডলার—অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় সাড়ে ৯ হাজারের বেশি টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি কাউকে কাউকে মাসিক প্রায় ৯৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন বিধায়করা।

প্রাথমিক তদন্তে গোয়েন্দাদের একাংশও এই বিদেশি ফাণ্ডিংয়ের যোগ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। আরামবাগের কলেজ পড়ুয়াদের একাংশকে এই আর্থিক দুর্নীতির জালে জড়িয়ে দেশবিরোধী কার্যকলাপে নামানোর যে চেষ্টা চলছে, তার প্রামাণ্য নথি ইতিমধ্যেই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার আকস্মিকতায় একদিকে যেমন স্থানীয় স্তরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, তেমনই পুজোর প্রাক্কালে এই বিদেশি তহবিলের তত্ত্ব রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন বিতর্কের ঝড় তুলেছে।