ভোপালে কোটি টাকার ড্রাগ কারখানার সন্ধান, দাউদ ইব্রাহিমের যোগসূত্র!

মধ্যপ্রদেশের ভোপালের কাছে জগদীশপুরার একটি সাধারণ গ্রাম। সেখানেই এক আপাত নিরীহ বাড়ির ভিতরে চলছিল কোটি কোটি টাকার ড্রাগ তৈরির গোপন কারখানা। ডিরেক্টরেট অফ রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স (DRI)-এর অভিযানে এই চক্রের পর্দা ফাঁস হয়েছে। এই কারবারের পেছনে কুখ্যাত অপরাধী দাউদ ইব্রাহিমের দল জড়িত বলে মনে করা হচ্ছে।
গত ১৬ আগস্ট DRI-এর একটি দল গোপন সূত্রে খবর পেয়ে জগদীশপুরার ১১ নম্বর বাড়িতে অভিযান চালায়। বাইরে থেকে তালা দেওয়া থাকলেও ভেতরে চলছিল রমরমা মাদক তৈরির কাজ। অভিযান চালিয়ে পুলিশ প্রায় ৬১ কেজি তরল মেফেড্রোন উদ্ধার করে, যার বাজারমূল্য ৯২ কোটি টাকা। সেই সঙ্গে পাওয়া যায় সাড়ে পাঁচশো কেজি রাসায়নিক কাঁচামাল। এই ঘটনার পর গোয়েন্দারা নিশ্চিত, আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্র ‘ডি-কোম্পানি’ মধ্যপ্রদেশেও তাদের জাল বিস্তার করেছে।
চক্রের মূল মাথা কারা?
গোয়েন্দাদের ধারণা, এই চক্রের প্রধান হলো দাউদ ইব্রাহিম, সেলিম ‘দোলা’ ইসমাইল ও উমেইদ-উর রহমান। তারা পাকিস্তান ও দুবাই থেকে টাকা নিয়ে এই পাচারচক্র চালাচ্ছে। মেফেড্রোনের স্থানীয় নাম ‘মিউ মিউ’। এই ড্রাগ মানুষের মস্তিষ্কে ডোপামিন ও সেরোটোনিনের মাত্রা বাড়িয়ে তোলে, যা দ্রুত আসক্তি তৈরি করে।
জানা গেছে, সেলিম ‘দোলা’ কুখ্যাত মাদক পাচারকারী ইকবাল মিরচির বিশ্বস্ত লোক ছিল। সে পুরোনো ‘ডি-কোম্পানি’র যোগাযোগ ব্যবহার করে তুরস্কের সঙ্গে মুম্বই ও গুজরাটের মাদক পাচারের রুট তৈরি করে। তার ভাইপো মুস্তাফা কুব্বাওয়ালার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ইন্টারপোল রেড কর্নার নোটিস জারি করেছে।
কারখানায় আধুনিক প্রযুক্তি
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, এই কারখানায় অত্যাধুনিক রাসায়নিক বিক্রিয়ক এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত চেম্বার রয়েছে। ফার্মাসিতে ডিপ্লোমা করা ফয়সাল কুরেসি এবং তার সহকারী রাজ্জাক খান এই ল্যাবের কাজ পরিচালনা করত।
গোয়েন্দাদের মতে, লোকালয়ের মধ্যে এমন একটি অত্যাধুনিক ড্রাগ ল্যাব চালানো বড় ধরনের রাজনৈতিক মদত ছাড়া সম্ভব নয়। এই ঘটনার পর তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে।