“ভোটের মুখে বড় ধাক্কা আই-প্যাকের!-সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অ্যাকশন মোডে ইডি

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পারদ চড়তেই ফের কয়লা পাচার মামলায় কোমর বেঁধে নামল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। বৃহস্পতিবার রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাক (I-PAC)-এর সঙ্গে যুক্ত একাধিক প্রতিষ্ঠানে একযোগে তল্লাশি অভিযান চালাল কেন্দ্রীয় সংস্থা। হায়দ্রাবাদ, বেঙ্গালুরু এবং দিল্লি— এই তিন শহরের গুরুত্বপূর্ণ ডেরায় চলল ম্যারাথন তল্লাশি।

ইডির নজরে আই-প্যাকের শীর্ষ কর্তা

তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, আই-প্যাকের অন্যতম পরিচালক ঋষি রাজ সিং-এর বেঙ্গালুরুর বাসভবনেও তল্লাশি চালানো হয়েছে। মূলত কয়লা চোরাচালান মামলার টাকা কীভাবে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরপথে পৌঁছেছে, তার হদিস পেতেই এই তৎপরতা। এর আগে গত জানুয়ারিতেও সল্টলেকের আই-প্যাক দফতরে হানা দিয়েছিল ইডি, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তুফান উঠেছিল।

১০ কোটির ‘হাওয়ালা’ কানেকশন?

ইডির বিস্ফোরক দাবি:

  • অপরাধলব্ধ প্রায় ১০ কোটি টাকা হাওয়ালা মারফত আই-প্যাকের কাছে পৌঁছেছিল।

  • ২০২২ সালের গোয়া বিধানসভা নির্বাচনে কাজ করার সময় তৃণমূল কংগ্রেসের কাছ থেকেও বিপুল অর্থ গ্রহণ করেছিল এই সংস্থা।

  • তদন্তকারীদের অভিযোগ, এর আগে যখন সল্টলেকের অফিসে তল্লাশি চলছিল, তখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতেই গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। যদিও নবান্ন এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বাড়ল চাপ

তদন্তে রাজ্য সরকারের ‘হস্তক্ষেপ’-এর অভিযোগ তুলে ইডি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে সিবিআই-এর (CBI) সঙ্গে সমন্বয় রেখে এখন আই-প্যাকের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে ইডি। নির্বাচনের রণকৌশল তৈরিতে আই-প্যাক যখন তৃণমূলের প্রধান স্তম্ভ, ঠিক সেই সময়েই এই কেন্দ্রীয় হানা শাসক শিবিরের অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।

তদন্তকারীদের দাবি, ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ হাতে পেলেই স্পষ্ট হবে কয়লা পাচারের কালো টাকা রাজনীতির ময়দানে কতটা ব্যবহৃত হয়েছে।