নভেম্বরের কিস্তির আগেই বড় ধাক্কা! অন্নপূর্ণা যোজনায় বাদ পড়তে চলেছে লক্ষ লক্ষ মহিলার নাম?

বাংলার মহিলাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে চালু হওয়া জনপ্রিয় ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ (Annapurna Yojana) নিয়ে সামনে এল এক বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ আপডেট। প্রতি মাসে প্রকল্পের আওতায় যোগ্য মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাঠানো হয়। কিন্তু আসন্ন নভেম্বর মাসের কিস্তি দেওয়ার ঠিক আগেই উপভোক্তাদের তালিকায় শুরু হয়েছে বিশেষ ও কড়া যাচাই প্রক্রিয়া। এর জেরে রাজ্যের প্রায় কয়েক লাখ মহিলার নাম তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া তথ্য ও আবেদনপত্র খতিয়ে দেখতে গিয়ে বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। ফলে আগামী মাস থেকেই বহু মহিলার অ্যাকাউন্টে এই মাসিক অনুদানের টাকা ঢোকা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

কেন বাদ পড়তে পারে নাম?

প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ না হলে বা তথ্যে গরমিল থাকলে নাম বাদ যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। যেমন—

  • পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি চাকরি করলে বা নিয়মিত সরকারি পেনশন পেলে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর যোগ্যতা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে।

  • এর পাশাপাশি আগে থেকেই অন্য কোনো সরকারি আর্থিক সাহায্য পাওয়ার বিষয়টিও কঠোরভাবে যাচাই করা হচ্ছে।

  • ব্লক ও পঞ্চায়েত স্তরে সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলছে, যাতে প্রকৃত ও যোগ্য উপভোক্তারাই এই সুবিধার আওতায় থাকেন।

আধার ও ডিবিটি (DBT) সংযোগের সমস্যা:

নথিপত্র ছাড়াও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্যের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। যেসব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার নম্বর লিঙ্ক করা নেই কিংবা ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT) পরিষেবা সক্রিয় নেই, সেখানে টাকা পাঠাতে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হতে পারে।

নভেম্বরের কিস্তি কবে ঢুকবে অ্যাকাউন্টে?

সাধারণত প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই এই আর্থিক অনুদান দেওয়ার কাজ শুরু হয়। তবে চলমান এই ব্যাপক যাচাই প্রক্রিয়ার কারণে এবার নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে টাকা পেতে একটু দেরি হতে পারে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর আগামী নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহের দিকে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। যাঁদের নথিপত্র এবং ব্যাঙ্কের তথ্য পুরোপুরি সঠিক রয়েছে, তাঁদের চিন্তার কোনো কারণ নেই।

তবে এই ঝঞ্ঝাট থেকে মুক্ত থাকতে এবং সময়মতো কিস্তির টাকা পেতে এখনই নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, আধার সংযোগ এবং ডিবিটি স্টেটাস পরীক্ষা করে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। কোনো সমস্যা থাকলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক বা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তা ঠিক করে নেওয়া জরুরি।