ভোটের আগেই আকাশে যুদ্ধ, বিহারে হেলিকপ্টার বুকিং নিয়ে তুমুল প্রতিযোগিতা, রেকর্ড ভাঙল দাম

কথায় আছে, ভোট বড় বালাই! বিহারে বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনও ঘোষণা হয়নি, কিন্তু তার আগেই আকাশে শুরু হয়ে গেছে এক অন্যরকম যুদ্ধ। শাসক এবং বিরোধী দলের নেতারা যেন আকাশে কে কত উঁচুতে উড়তে পারেন, সেই প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। কারণ একটাই— প্রচারের জন্য হেলিকপ্টার বুকিং!
রেকর্ড ভাঙল হেলিকপ্টার বুকিং
এই বছর বিহারের নেতারা হেলিকপ্টার বুকিংয়ে গতবারের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভোটের প্রচারে প্রতিদিন অন্তত ২০টি হেলিকপ্টার আকাশে উড়বে। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন এনডিএ-জেডি(ইউ) জোটই বুক করেছে এক ডজনের বেশি হেলিকপ্টার, যার মধ্যে শুধু বিজেপিই ব্যবহার করবে ১২টি। অন্যদিকে, বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ও পিছিয়ে নেই। তারা ৫টি হেলিকপ্টার নিয়ে প্রচার শুরু করবে, যার মধ্যে কংগ্রেস এবং আরজেডি দুটি করে হেলিকপ্টার বুক করেছে।
ভাড়া আকাশছোঁয়া, তবুও চাহিদা তুঙ্গে
২০২০ সালের নির্বাচনের সময় কোভিডের কারণে তুলনামূলকভাবে কম ভাড়া ছিল, কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। সাধারণ সময়ে একটি সিঙ্গেল ইঞ্জিন হেলিকপ্টারের প্রতি ঘণ্টার ভাড়া ১ থেকে ২ লক্ষ টাকা হলেও, ভোটের সময় তা ২৫% বেড়ে যায়। দুটি ইঞ্জিন হেলিকপ্টারের ক্ষেত্রে এই ভাড়া ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকা থেকে বেড়ে ১০০% পর্যন্ত বাড়তে পারে! এর সাথে যুক্ত হয় ১৮% জিএসটি। তারপরও নেতারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেলিকপ্টার বুক করছেন, যা প্রমাণ করে প্রচারের জন্য তাঁরা কোনো খরচেই পিছপা হতে রাজি নন।
কেন আকাশপথই ভরসা?
বিজেপি মুখপাত্র বিনোদ শর্মা বলেন, “হেলিকপ্টারের সাহায্যে খুব কম সময়ে একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রে প্রচার চালানো সম্ভব।” তিনি মনে করেন, গর্তে ভরা রাস্তা দিয়ে সময় নষ্ট করার চেয়ে আকাশপথই সেরা বিকল্প।
অন্যদিকে, আরজেডি নেতা রাজেশ যাদব জানান, “আমাদের দলের সুপ্রিমো লালুপ্রসাদ যাদব একসময় ভাঙা জিপে প্রচার করেছেন। আমাদের হেলিকপ্টারের কোনো শখ নেই।” তবে কম সময়ে একাধিক এলাকায় পৌঁছাতে এবার তাঁরাও হেলিকপ্টার ব্যবহার করবেন বলে জানান।
এই হেলিকপ্টার যুদ্ধ শুধু বিহারেই সীমাবদ্ধ নয়, বাংলাতেও নির্বাচনের সময় প্রধানমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং কিছু ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রীদেরও কপ্টারে প্রচার করতে দেখা যায়। তবে আঞ্চলিক নেতাদের মধ্যে এই প্রবণতা কম।