ভোটার তালিকা সংশোধনে মারাত্মক গাফিলতি! কুলটিতে পাড়ার মোড়ে টেবিল পেতে SIR ফর্ম বিলি BLO-দের, সরব বিজেপি

রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনী প্রক্রিয়া বা এসআইআর (SIR) চলাকালীন গুরুতর অভিযোগ উঠল পশ্চিম বর্ধমানের কুলটিতে। নিয়ামতপুরের বিষ্ণু বিহার কলোনিতে বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা বাড়ি বাড়ি না-গিয়ে পাড়ার মোড়ে একটি দোকানের সামনে টেবিল পেতে ক্যাম্প করে SIR-এর ফর্ম বিলি করছেন। এই ঘটনাকে বেআইনি আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে আসানসোলের বিজেপি নেতৃত্ব।
স্থানীয়দের জটলা এবং ভিড় দেখে অনেকেই জানতে চাইছেন, ঠিক কী কারণে এমন ‘দোকান’-এর মতো করে ফর্ম বিলি করা হচ্ছে।
বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ: কুলটির প্রভাবশালী বিজেপি নেতা তথা বিজেপির আসানসোল সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক কেশব পোদ্দার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি জানান, “আমরা শুনতে পেয়েছি কুলটির বিষ্ণু বিহার কলোনিতে দুই বিএলও পাড়ার মধ্যে বসে ফর্ম বিলি করছেন। এটা একেবারেই বেআইনি। তাঁদেরকে প্রত্যেকটি বাড়িতে গিয়ে ফর্ম দিতে হবে।”
কেশব পোদ্দার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “তাঁরা যদি এই কাজ চালিয়ে যান, তাহলে আমরা আগামী দিনে ওই বিএলও’দের নামে মামলা করব। আমরা ইতিমধ্যেই বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের জানিয়েছি।”
জেলাশাসকের বক্তব্য: এই অভিযোগ প্রসঙ্গে পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক এস পোন্নাবলম বলেন, “প্রত্যেকটি বিএলও’কে বাসিন্দাদের বাড়িতে গিয়ে ফর্ম বিতরণ করতে হবে। এটাই নিয়ম। কেন এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি।”
বিএলও-দের অজুহাত: বিতর্ক শুরু হলে বুথ নম্বর ৯৯ ও ১০০-এর বিএলও-দের প্রশ্ন করা হয়। এক বিএলও চৈতালী বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “এখানে একটি বহুতল আবাসন আছে সাততলা অ্যাপার্টমেন্ট। প্রতিটি ফ্ল্যাটে গিয়ে ফর্ম দেওয়া খুব কঠিন। তাই বাসিন্দাদের অনুমতি নিয়ে আমরা ফ্ল্যাটের সবাইকে ডেকে এক জায়গায় ফর্ম বিলি করছি।” অন্য আরেক বিএলও আশিস রায় একই সুর টেনে বলেন, এটি বহুতল আবাসনের বাসিন্দাদের সুবিধার জন্যই করা হয়েছে এবং পরে তাঁরা অন্য এলাকায় বাড়ি বাড়ি যাবেন।
তবে বিএলও-রা বহুতলের কথা বললেও, বিষ্ণু বিহার কলোনির বহু সাধারণ বাসিন্দা এই ক্যাম্প থেকে ফর্ম নিয়েছেন বলে জানা গেছে। এক স্থানীয় বাসিন্দা অনিরুদ্ধ চৌবে জানান, “ফর্ম বাড়িতে বাড়িতে দিলে ভালো হত। কারণ ফর্মে যদি কিছু বুঝতে না-পারি, সে ক্ষেত্রে বিএলও-দের জিজ্ঞাসা করা যেত। এক্ষেত্রে ভিড়ে সেটা হল না। ভুল ত্রুটি হলে পুনরায় ফর্ম ভরতে হবে।”
স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে ভিড় করে ফর্ম বিলি হলে এলাকার বাইরের মানুষও ফর্ম নিয়ে যেতে পারেন, যা ভোটার চিহ্নিতকরণে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।