ভোটার তালিকায় নজিরবিহীন গরমিল, মায়ের চেয়ে ছেলে ১১ বছরের বড়! শুভেন্দুর অভিযোগে SIR প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন বিতর্ক

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীনই রাজ্যের ভোটার তালিকায় এক নজিরবিহীন ‘বয়সের গরমিল’ সামনে আনলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে দাবি করেছেন, ভোটার তালিকার হিসাবে এমন অবাস্তব তথ্য মিলেছে, যেখানে মায়ের বয়স ৬৫ বছর, আর ছেলের বয়স ৭৬ বছর! অর্থাৎ, মা তাঁর সন্তানের চেয়ে ১১ বছরের ছোট।
সমাজ মাধ্যমে বিস্ফোরক অভিযোগ
শনিবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে শুভেন্দু অধিকারী জানান, এই অদ্ভুত উদাহরণটি ধরা পড়েছে বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভার রামনগর পঞ্চায়েত এলাকার ২৬৪ নম্বর বুথে। ওই বুথের ভোটার আব্দুল মজিদ শেখের বয়স ৭৬ বছর। কিন্তু তাঁর মা যছিমন শেখের বয়স দেখানো হয়েছে ৬৫ বছর। যদিও যছিমন শেখ বর্তমানে দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবায় থাকেন।
শুভেন্দুর অভিযোগ, ২০০২ সালের সংশোধিত ভোটার তালিকায় মায়ের (যছিমন) নাম থাকলেও, বয়সে বড় ছেলে আব্দুল মজিদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই অসম্ভব গরমিলকে সামনে এনে শুভেন্দু আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “এরকম উদাহরণ এখন দিকে দিকে মিলছে। কে কাকে বাবা-মা সাজাচ্ছে, কে শ্বশুর সাজাচ্ছে, তা আর বুঝে পাওয়া যাচ্ছে না। SIR প্রক্রিয়া শেষ হলে রাজ্যের জনসংখ্যা কমে যাবে, জনবিন্যাস পাল্টে যাবে।” তিনি এই বিষয়টি নির্বাচন কমিশন ও সিইও দপ্তরের নজরে আনার কথা পোস্টে জানান।
দাদুর দুই বিয়ে: বিভ্রাটের কারণ জানাল পরিবার
তবে আব্দুল মজিদের পরিচয় নিয়ে তৈরি হওয়া এই বিভ্রাট সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন তাঁর ছেলে সাবির হোসেন শেখ। সাবির জানান, পরিবারে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে তাঁর দাদুর দুই বিয়ের কারণে।
সাবির জানান, “দাদুর দু’টো বিয়ে ছিল। বাবা প্রথম পক্ষের ছেলে। তাঁর মা মারা যান। পরে দাদু আবার বিয়ে করেন। সে [দ্বিতীয় স্ত্রী] বয়সে বাবার চেয়েও ছোট ছিলেন বলে শুনেছি। সেই কারণেই বয়সের গরমিল।” অর্থাৎ, ভোটার তালিকায় যছিমন শেখের নাম আব্দুল মজিদের মা হিসেবে নথিভুক্ত হলেও, বয়সের পার্থক্য এসেছে দাদুর দ্বিতীয় বিয়ের কারণে।
এদিকে, স্থানীয় রামনগর পঞ্চায়েত প্রধান এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তাঁর দাবি, বয়স বা পরিচয়ের সমস্ত তথ্য নির্বাচন কমিশনের কাছেই রয়েছে। শুভেন্দুর পোস্টের পর এই ‘অসম্ভব অঙ্কের’ ভোটার নিয়ে এলাকাজুড়ে এবং রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।