ভোটার তালিকায় আধার বাধ্যতামূলক! সুপ্রিম কোর্টের রায়ে কী বদলাচ্ছে, জানুন বিস্তারিত

নাগরিকত্বের প্রমাণ না হলেও আধার কার্ডকে (Aadhaar Card) একটি বৈধ পরিচয়পত্র হিসেবে স্বীকৃতি দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। বিহারের এসআইআর (Special Investigation Report) মামলার প্রেক্ষিতে দেশের শীর্ষ আদালত জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে (ECI) স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য আধার কার্ড গ্রহণ করতে হবে। এর ফলে, এতদিন পর্যন্ত স্বীকৃত ১১টি নথির তালিকায় ১২তম নথি হিসেবে আধার কার্ড অন্তর্ভুক্ত হলো।

কেন এই রায় গুরুত্বপূর্ণ?
আধার কার্ডকে পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রহণ করা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছিল। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, পাসপোর্ট এবং জন্ম শংসাপত্র ছাড়া কোনো নথিই নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। সেই যুক্তিতেই আদালত আধারকে ভোটার তালিকার জন্য একটি বৈধ নথি হিসেবে গ্রহণ করার পক্ষে সায় দিয়েছে। এই রায়কে কেন্দ্রবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের জয় হিসেবে দেখছে, কারণ তারা বরাবরই আধার কার্ডকে একটি নির্ভরযোগ্য নথি হিসেবে গণ্য করার পক্ষে ছিল।

ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য নতুন তালিকা:
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত মোট ১২টি নথি হলো:

কেন্দ্র/রাজ্য সরকার বা পিএসইউ-এর নিয়মিত কর্মী ও পেনশনভোগীর পরিচয়পত্র বা পেনশন অর্ডার

১ জুলাই ১৯৮৭-এর আগে ভারত সরকার/ব্যাংক/ডাকঘর/এলআইসি/পিএসইউ কর্তৃক জারি করা পরিচয়পত্র/সনদ

জন্মের শংসাপত্র বা বার্থ সার্টিফিকেট

পাসপোর্ট

মাধ্যমিক বা সমমানের শিক্ষাগত শংসাপত্র

রাজ্য সরকারের দেওয়া স্থায়ী বসবাসের শংসাপত্র

বন অধিকার শংসাপত্র

ওবিসি/এসসি/এসটি বা অন্য জাতিগত শংসাপত্র

ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেনস (যেখানে কার্যকর)

পরিবার নিবন্ধন (রাজ্য/স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্বারা প্রস্তুত)

সরকারি জমি বা বাড়ি বরাদ্দপত্র

আধার কার্ড

পশ্চিমবঙ্গের আবেদন খারিজ
এদিকে, বিহারের পর পশ্চিমবঙ্গের মতো অন্যান্য রাজ্যেও ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু হতে পারে। এই আবহে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়ালের কাছে নবান্নের তরফে একটি আবেদন জানানো হয়েছিল। সেখানে ভোটার তালিকায় সংশোধনের জন্য রেশন কার্ড এবং স্বাস্থ্যসাথী কার্ডকেও বৈধ নথি হিসেবে গণ্য করার অনুরোধ জানানো হয়।

তবে, সিইও দফতর নবান্নের এই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুসারে দেশজুড়ে ভোটার তালিকার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য থাকবে। এর ফলে, আপাতত রেশন কার্ড বা স্বাস্থ্যসাথী কার্ডকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির জন্য নথি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।