ভোটার তালিকাতেই বড় ধাক্কা! কলকাতার পুরভোট নিয়ে অনিশ্চয়তা কি আরও বাড়ল? জানুন বড় আপডেট

কলকাতা পুরসভা-সহ রাজ্যের মোট সাতটি পুরসভার নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। এর মাঝেই পুরভোটের প্রস্তুতি প্রক্রিয়ায় বড়সড় পরিবর্তন আনল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। আগামী ১২ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা থাকলেও, আপাতত সেই সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। কমিশনের এই সিদ্ধান্তে ভোটপ্রার্থীরা তো বটেই, সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও পুরভোটের দিনক্ষণ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে।

১. ভোটার তালিকা প্রকাশের সময়সীমা বাড়াল কমিশন

রাজ্য নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, জেলা নির্বাচন অফিসারদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে নির্ধারিত ১২ নভেম্বরের মধ্যে আর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হচ্ছে না। এর জন্য সময়সীমা আরও কিছুটা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ভোটগ্রহণের আগের এই অতি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পিছিয়ে যাওয়ায় সামগ্রিক নির্বাচনী প্রক্রিয়া কিছুটা হলেও শ্লথ হয়ে পড়েছে।

২. কলকাতা হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা ও আইনি জট

ভোটার তালিকা ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার এই বিলম্বের পেছনে রয়েছে বড় ধরনের আইনি জট। কলকাতা পুরভোটের পুরো প্রক্রিয়া এবং নির্ঘণ্ট ঘোষণা করার ওপর বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে কলকাতা হাইকোর্ট। আগামী শুক্রবার, ৬ নভেম্বর এই মামলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রায় বা নির্দেশ দিতে পারে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের সেই রায়ের ওপরই এখন নির্ভর করছে পরবর্তী সমস্ত পদক্ষেপ।

৩. ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস ও প্রশাসক বোর্ডের অধীনে পরিচালনা

গত জুন মাসে কলকাতা পুরসভার নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকেই পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের নেতৃত্বে প্রশাসক বোর্ড সমস্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাচ্ছে। এর মধ্যেই নাগরিক পরিষেবার মান আরও উন্নত করার উদ্দেশ্যে কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশনের (Delimitation) কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পূর্বে কলকাতা পুরসভার আসন সংখ্যা ১৪৪টি থাকলেও, নতুন পুনর্বিন্যাসে তা বাড়িয়ে মোট ২০৯টি ওয়ার্ড করা হয়েছে। এখন আদালতের আগামী নির্দেশই ঠিক করে দেবে কবে এবং কীভাবে রাজ্যের এই মেগা পুরভোটের দামামা বাজবে।