দীপাবলিতে আতসবাজিতে হাত পুড়লে মারাত্মক বিপদ! প্রথম ২০ মিনিটে এই কাজ না করলে চিরতরে পঙ্গু হয়ে যেতে পারে হাত

উৎসবের আলোয় চারদিক আলোকিত করার রাত অর্থাৎ দীপাবলি মানেই আলোর রোশনাই, আনন্দ আর আকাশে নানা রঙের আতশবাজির মেলা। কিন্তু একটুখানি অসাবধানতা কিংবা সামান্য গাফিলতিই এই আনন্দের মুহূর্তগুলোকে চিরজীবনের কান্নায় বদলে দিতে পারে। দীপাবলির সময় আতশবাজি ফোটানোর আকর্ষণে মেতে ওঠার আগে এর ভয়াবহ দিক ও দুর্ঘটনার প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি। চিকিৎসকদের মতে, আতশবাজির কারণে ত্বক পুড়ে যাওয়ার ঘটনা কেবল বাইরের চামড়াতেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা শরীরের ভেতরের গভীর টিস্যু ও স্নায়ুর মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
১. পোড়া জায়গা অসাড় হওয়া মানেই কি বড় বিপদ?
অনেকেই মনে করেন, হাত বা শরীরের কোনো অংশ পুড়ে যাওয়ার পর যদি ব্যথা না করে বা সেই স্থানটি অসাড় হয়ে যায়, তবে বোধহয় ভয়ের কিছু নেই। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা!
পোড়ার পর যদি কোনো ব্যথা অনুভূত না হয়, তবে তা অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি সংকেত। এর অর্থ হলো আঘাত এত গভীর যে ত্বকের ভেতরের স্নায়ু বা নার্ভ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া পোড়া ত্বকের রং যদি সাদা হয়ে যায় অথবা চামড়া কালচে ও শক্ত হয়ে যায়, তবে বুঝতে হবে গভীর টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের (সার্জন) শরণাপন্ন হওয়া উচিত। হাত পুড়ে যাওয়ার পর অবহেলা করলে ক্ষত শুকিয়ে যাওয়ার পরেও আঙুল স্থায়ীভাবে শক্ত বা কুঁকড়ে যেতে পারে, যার ফলে দৈনন্দিন কাজকর্ম যেমন লেখালেখি করা বা কিছু ধরা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াতে পারে।
২. দুর্ঘটনার প্রথম ২০ মিনিটে যা যা করা বাধ্যতামূলক
আতশবাজি বা পটকা ফোটানোর সময় দুর্ভাগ্যবশত হাত পুড়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু বিজ্ঞানসম্মত ও জরুরি পদক্ষেপ নিলে ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব:
নিরাপদ দূরত্ব ও আগুন নেভানো: দুর্ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। যদি কাপড়ে আগুন লেগে যায়, তবে দৌড়াদৌড়ি না করে মাটিতে শুয়ে পড়ে গড়াগড়ি দিন, যাতে আগুন নিভে যায়।
ঠান্ডা জলের ব্যবহার: পোড়া অংশটি অন্তত ২০ মিনিট ধরে ঠান্ডা ও বহমান কলের জলের নিচে ধরে রাখুন। মনে রাখবেন, কখনোই পোড়া জায়গায় সরাসরি বরফ বা বরফজল ব্যবহার করবেন না, এতে ত্বকের ক্ষতি আরও বেড়ে যেতে পারে।
গহনা বা জামাকাপড় খুলে ফেলুন: পোড়া জায়গাটি ফুলে ওঠার আগেই হাতের আংটি, ঘড়ি বা অন্যান্য মেটালের অনুষঙ্গ দ্রুত খুলে ফেলুন। পোড়া চামড়ার সঙ্গে যদি কাপড় সেঁটে যায়, তবে তা নিজেরা টেনে তোলার চেষ্টা করবেন না।
৩. ভুলেও এই ভুলগুলি করবেন না!
আমাদের সমাজে পোড়া স্থানে তেল, হলুদ বা টুথপেস্ট লাগানোর পুরনো কিছু কুসংস্কার রয়েছে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, ক্ষতের ওপর কখনোই টুথপেস্ট, ঘি, হলুদ বা তেল জাতীয় কিছু লাগানো উচিত নয়। এতে ক্ষতস্থানে ইনফেকশন বা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এর পরিবর্তে ঠান্ডা জলে ধোয়ার পর ক্ষতস্থানটি একটি পরিষ্কার, জীবাণুমুক্ত এবং নন-স্টিকি ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢেকে দিয়ে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া উচিত। আনন্দময় দীপাবলিকে নিরাপদ রাখতে সচেতনতাই হোক আপনার সেরা হাতিয়ার।