ভোটার কার্ডের জন্য বারবার আবেদন করছেন? নির্বাচন কমিশনের এই বড় ভুল না শুধরালে বড় বিপদে পড়বেন!

উত্তরপ্রদেশে ভোটার তালিকায় নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে ফর্ম-৬ (Form 6) বারবার জমা দেওয়ার প্রবণতা এবং তার জেরে ভোটার তালিকায় একই ব্যক্তির একাধিক নাম নথিভুক্ত হওয়ার মতো সমস্যা নিরসনে কঠোর পদক্ষেপ করল নির্বাচন বিভাগ। মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সমস্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, কমন সার্ভিস সেন্টার (CSC) বা গণসুবিধা কেন্দ্রের অপারেটরদের এই বিষয়ে যথাযথ প্রশিক্ষণ দিতে হবে। পাশাপাশি, ফর্ম জমা দেওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে রেফারেন্স নম্বর না পেলে নাগরিকদের অকারণে পুনরায় আবেদন করা থেকে বিরত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
১. বারবার ফর্ম জমা পড়ার আসল কারণ ও সমস্যা
প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অনলাইনে বা সিএসসি-র মাধ্যমে ফর্ম-৬ পূরণ করার সময় প্রায়শই আবেদনকারীদের মোবাইল ফোনে সঙ্গে সঙ্গে রেফারেন্স নম্বরের এসএমএস বা বার্তা আসে না। আবেদন জমা পড়েছে কি না, তা নিশ্চিত না হয়েই অনেক সময় প্রার্থীরা ফর্মটি আবার পূরণ করতে শুরু করেন। এর ফলে সিস্টেমের ত্রুটিতে একই ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকায় একাধিকবার চলে আসে, যা পরবর্তীতে বড় ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করে।
২. ই-স্বাক্ষর (E-Sign) এবং ওটিপি (OTP)-র কড়া নিয়ম
নির্বাচন বিভাগ স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, ফর্ম-৬ এর চূড়ান্ত জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াটি শুধুমাত্র ই-স্বাক্ষর (E-Sign) সম্পন্ন হওয়ার পরেই সম্পূর্ণ হয়। এই প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীর আধার-সংযুক্ত মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি (OTP) পাঠানো হয়। সফলভাবে ই-স্বাক্ষর সম্পন্ন হওয়ার পরেই কেবল একটি নির্দিষ্ট আবেদন রেফারেন্স নম্বর তৈরি হয় এবং কম্পিউটার স্ক্রিনে আবেদন সফলভাবে জমার নিশ্চিতকরণ বার্তা ভেসে ওঠে।
যদি কোনো কারণে মোবাইলে রেফারেন্স নম্বরের বার্তা না আসে, তবে আবেদনকারী বা সিএসসি অপারেটরকে স্ক্রিনে প্রদর্শিত সেই রেফারেন্স নম্বরটি সঙ্গে সঙ্গে লিখে রাখতে হবে অথবা তার একটি স্ক্রিনশট নিয়ে আবেদনকারীকে দিয়ে দিতে হবে। এর ফলে বারবার আবেদনপত্র পুনরায় জমা দেওয়ার ঝামেলা এড়ানো সম্ভব হবে এবং সহজেই স্ট্যাটাস ট্র্যাক করা যাবে।
৩. অপারেটরদের মোবাইল নম্বর ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা
নির্বাচন বিভাগ গণসহায়ক কেন্দ্রের অপারেটরদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছে যে, ফর্ম-৬ পূরণ করার সময় শুধুমাত্র আবেদনকারীর নিজস্ব এবং সচল মোবাইল নম্বরটিই ইনপুট দিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই অপারেটররা নিজেদের বা কোনো কাল্পনিক মোবাইল নম্বর ফর্মে ব্যবহার করতে পারবেন না। কারণ ওই নির্দিষ্ট নম্বরেই সমস্ত আপডেট, রেফারেন্স নম্বর এবং পরবর্তী সময়ে ডিজিটাল ভোটার আইডি বা ই-ইপিআইসি (e-EPIC) ডাউনলোড করার লিংক পাঠানো হয়।
৪. ভুল পিন কোড বা অসম্পূর্ণ ঠিকানায় আটকে যেতে পারে ভোটার কার্ড
ভোটার আইডি কার্ড সময়মতো সঠিক ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য ফর্ম-৬ এ সম্পূর্ণ ও নির্ভুল ঠিকানা এবং সঠিক পিন কোড লেখার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সাধারণত ডাক বিভাগের স্পিড পোস্টের মাধ্যমেই ভোটার কার্ড পাঠানো হয়ে থাকে। তাই সামান্য ভুল পিন কোড বা অসম্পূর্ণ ঠিকানার কারণে কার্ডটি ফেরত চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই বিষয়ে সমস্ত নির্বাচনী নিবন্ধন কর্মকর্তা (ERO), সহকারী নির্বাচনী নিবন্ধন কর্মকর্তা এবং বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) আরও বেশি সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।