অভিনেতা সাইফ আলি খান করণ জোহরের শো ‘কফি উইথ করণ’-এ তাঁর ওপর হওয়া ছুরি হামলার ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন

বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সাইফ আলি খান-এর ওপর হামলার ঘটনা নিয়ে অতীতে কম চর্চা হয়নি। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে মুম্বইয়ের বান্দ্রার বিলাসবহুল বাড়িতে ঘটে যাওয়া সেই ভয়ঙ্কর ছুরি হামলার অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার নিজেই মুখ খুললেন খোদ অভিনেতা। সম্প্রতি স্ত্রী কারিনা কাপুর খানকে সঙ্গে নিয়ে পরিচালক করণ জোহরের জনপ্রিয় চ্যাট শো ‘কফি উইথ করণ ৯’-এর কাউচে হাজির হয়েছিলেন সাইফ। আর সেখানেই শোয়ের মাঝে আলোচনার ফাঁকে উঠে আসে তাঁর ওপর হওয়া সেই প্রাণঘাতী হামলার চাঞ্চল্যকর ও রোমহর্ষক সমস্ত তথ্য।

১. “ছুরিটা ভালো হলে আমি আজ মরেই যেতাম!”

সাক্ষাৎকারের সময় সাইফ প্রকাশ করেন যে, হামলাকারী যে অস্ত্রটি ব্যবহার করেছিল, তা অত্যন্ত নিম্নমানের বা সস্তা একটি ছুরি ছিল। এই প্রসঙ্গে অভিনেতা রসিকতার সুরেই অথচ অত্যন্ত গুরগম্ভীরভাবে বলেন, “এটা খুব নিম্নমানের একটা ছুরি ছিল। যদি এটা ভালো হতো, তাহলে আমি মরেই যেতাম!” তিনি জানান, ধস্তাধস্তির সময় ওই ছুরির একটি অংশ ভেঙে তাঁর পিঠে সোজা বিঁধে গিয়েছিল।

২. ছোট্ট তৈমুরের সেই নিষ্পাপ প্রশ্ন ও হাসপাতালের দৃশ্য

এই হামলার রাতে সাইফ ও কারিনার ছোট্ট ছেলে তৈমুরও যথেষ্ট ভয় পেয়েছিল এবং মানসিকভাবে বিচলিত হয়ে পড়েছিল। তৈমুর নিষ্পাপভাবে বাবাকে জড়িয়ে ধরে প্রশ্ন করেছিল, “আব্বা, তুমি কি মরে যাবে?” সন্তানের মুখে এই কথা শোনার পর অভিনেতা অত্যন্ত ভেঙে পড়েন এবং তৎক্ষণাৎ কারিনাকে ইশারা করেন তৈমুরকে হাসপাতাল থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

৩. চালক না থাকায় অটোতে করে হাসপাতালে যাত্রা

২০২৫ সালের সেই ভয়ঙ্কর রাতের স্মৃতিচারণ করে সাইফ জানান, ঘটনার রাতে তাঁর বাড়ির চালক সন্ধ্যাবেলাতেই বাড়ি চলে যাওয়ার কারণে সেই মুহূর্তে কোনো গাড়ি উপলব্ধ ছিল না। ফলে গুরুতর আহত অবস্থাতেই বাধ্য হয়ে তাঁকে অটো করে লীলাবতী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হামলাকারী তাঁকে প্রায় ১০ বার ছুরিকাঘাত করেছিল এবং পুরো ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটেছিল যে সাইফ বা তাঁর পরিবার সামলে ওঠার সুযোগই পাননি।

উল্লেখ্য, করণ জোহরের এই জনপ্রিয় চ্যাট শো-এর শেষ সিজন হিসেবে জিও হটস্টারে স্ট্রিম হওয়া এই পর্বটি এখন নেটদুনিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।