ভূত চতুর্দশীতে প্রদীপ কোন দিকে মুখ করে জ্বালাবেন? না জানলেই মারাত্মক ভুল!

বাঙালি হিন্দু সনাতন ধর্মে ভূত চতুর্দশী বা ‘নরক চতুর্দশী’ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মাহাত্ম্যপূর্ণ দিন। লোককথা অনুযায়ী, এই বিশেষ তিথিতে অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটাতে দেবী কালিকা স্বয়ং ‘চামুণ্ডা’ রূপে মর্ত্যে আগমন করেন। তাঁর সঙ্গেই আগমন ঘটে ভূত-প্রেতাত্মাদের এবং ভক্তদের পুজো নিতে মর্ত্যে আসেন দৈত্যরাজ বলি। তাই অশুভ শক্তি থেকে মুক্তি পেতে ও সংসারে শুভ শক্তির সঞ্চার ঘটাতে এই দিনে ১৪টি প্রদীপ জ্বালানো এবং ১৪ ধরনের শাক খাওয়ার প্রাচীন প্রথা পালন করা হয়।
চলুন জেনে নেওয়া যাক এ বছরের ভূত চতুর্দশীর সঠিক নির্ঘণ্ট, প্রদীপ জ্বালানোর নিয়ম এবং ১৪ শাকের বৈজ্ঞানিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব।
ভূত চতুর্দশী তিথির সময়সূচি ও নির্ঘণ্ট
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী:
চতুর্দশী তিথি শুরু: ২১ কার্তিক (ইংরাজি ৭ নভেম্বর), শনিবার — সকাল ১০টা ৪৯ মিনিটে।
তিথি সমাপ্তি: ২২ কার্তিক (ইংরাজি ৮ নভেম্বর), রবিবার — সকাল ১১টা ২৮ মিনিটে।
গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা অনুযায়ী:
চতুর্দশী তিথি শুরু: ২১ কার্তিক (ইংরাজি ৭ নভেম্বর), শনিবার — সকাল ১০টা ৩৮ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডে।
তিথি সমাপ্তি: ২২ কার্তিক (ইংরাজি ৮ নভেম্বর), রবিবার — সকাল ১০টা ৪৬ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডে।
১৪ শাক কেন খাওয়া হয় এবং এতে কী কী শাক থাকে?
ভূত চতুর্দশীর দিন ঋতু পরিবর্তনের সন্ধিক্ষণে শরীরকে সুস্থ রাখতে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) বাড়াতেই এই বিশেষ ১৪টি শাক একত্রে রান্না করে খাওয়ার রীতি রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী এই ১৪টি শাক হলো: ১. ওল শাক, ২. কেঁউ শাক, ৩. বেতো শাক (বাস্তুক), ৪. কালকাসুন্দে শাক, ৫. সর্ষে শাক, ৬. জয়ন্তী শাক, ৭. শালিঞ্চে শাক (হেলঞ্চে), ৮. গুলঞ্চ শাক, ৯. পলতা শাক (পটল পাতা), ১০. শুলফা শাক, ১১. ঘেঁটু শাক, ১২. শুষনি শাক, ১৩. ওল-মূল শাক (মূলোর পাতা) এবং ১৪. ব্রাহ্মী শাক। (অনেকে নিম শাকও ব্যবহার করে থাকেন।)
পেটের নানা সমস্যা দূর করা ও আবহাওয়ার পরিবর্তনে রোগব্যাধি থেকে সুরক্ষা দিতে এই শাকগুলি অত্যন্ত কার্যকারী ভূমিকা পালন করে।
১৪ প্রদীপ জ্বালানোর সঠিক নিয়ম
বিশ্বাস করা হয়, ভূত চতুর্দশীর রাতে ১৪টি প্রদীপের আলো গৃহ ও কর্মক্ষেত্র থেকে সমস্ত অলক্ষ্মী ও অশুভ শক্তি দূর করে।
তেল ও পাত্র: মাটির প্রদীপে খাঁটি সরষের তেল দিয়ে এই প্রদীপগুলি জ্বালাতে হয়।
দিক নির্দেশ: প্রদীপ জ্বালানোর সময় প্রদীপের শিখা বা সলতেটি অবশ্যই উত্তরমুখী করে রাখতে হবে।
এই নিয়মে ১৪টি প্রদীপ বাড়ির অন্ধকার কোণে, দরজায় ও জানালায় রাখলে সংসারে শুভ কর্মশক্তির আগমন ঘটে এবং সমৃদ্ধি বজায় থাকে।