বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হলো স্বামীকে! সোনারপুরে গৃহবধূর সঙ্গে যা ঘটল, শুনলে শিউরে উঠবেন

বারুইপুরের নারকীয় ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার লাগোয়া সোনারপুরে ফের এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠল! আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে দুষ্কৃতীদের চরম অত্যাচারের শিকার হতে হলো ওই বধূকে। স্বামীকে মারধর করে দূরের স্টেশনে ফেলে দিয়ে বধূর গলায় ছুরি ধরে চলে অমানুষিক নির্যাতন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সুভাষগ্রাম এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই তদন্তে নেমেছে পুলিশ। এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও বাকি চার অভিযুক্ত এখনো অধরা।

মাঝরাতে দরজার ড্রপ-লক ভেঙে তাণ্ডব!

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে নির্যাতিতা বধূ তাঁর জামাইবাবুর বাড়িতে ছিলেন। রাতের শেষ ট্রেনে কাজ সেরে সেখানে আসেন তাঁর স্বামীও। জামাইবাবু ও তাঁর স্ত্রী অন্য একটি ঘরে ঘুমোতে যান। রাত গড়ালে খাওয়া-দাওয়া সেরে নিজের ঘরে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন ওই দম্পতি।

অভিযোগ, মাঝরাতে আচমকাই পাঁচজন দুষ্কৃতী দরজা ভেঙে জোরপূর্বক ঘরে ঢুকে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বধূর স্বামীকে অমানুষিক মারধর শুরু করে তারা। এরপর তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে সুভাষগ্রাম স্টেশনে ফেলে রেখে আসে দুষ্কৃতীরা।

গলায় ছুরি ধরে গণধর্ষণ, আতঙ্কে এলাকা ছাড়া নির্যাতিতা

স্বামীকে সরাতেই ঘরে ফিরে এসে তাণ্ডব শুরু করে অপরাধীরা। অভিযোগ, বধূর গলায় ধারালো ছুরি ধরে খুনের হুমকি দিয়ে পাঁচ দুষ্কৃতী মিলে তাঁকে গণধর্ষণ করে। প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে চলে এই চরম অত্যাচার। দুষ্কৃতীদের হাত থেকে কোনওমতে নিজেকে ছাড়িয়ে পালিয়ে প্রাণ বাঁচান ওই বধূ।

শনিবার সকালে সোনারপুর থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতা। তবে দুষ্কৃতীদের অব্যাহত হুমকির মুখে এবং চরম আতঙ্কে তিনি বর্তমানে ক্যানিংয়ে তাঁর মেয়ের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই নির্যাতিতার শারীরিক পরীক্ষা বা মেডিকেল টেস্ট করানো হয়েছে।

সদ্য জেল ফেরত দুষ্কৃতীদের ‘মুক্তাঞ্চল’! ফুঁসছেন স্থানীয়রা

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যে এলাকায় এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি দুষ্কৃতী ও মাদক কারবারীদের মুক্তাঞ্চল হিসেবে পরিচিত। অপরাধের পেছনে যাদের নাম উঠে এসেছে, তারা প্রত্যেকেই এলাকায় চিহ্নিত দুষ্কৃতী এবং কিছুদিন আগেই জেল থেকে জামিনে ছাড়া পেয়েছে। এমনকি গণধর্ষণের আগের দিনও তারা অন্য এক পাড়ায় ঢুকে এক ব্যক্তিকে বেধড়ক মারধর করেছিল বলে খবর।

বারুইপুরের ঘটনার ঠিক পর পরই সোনারপুরে এই ধরনের ঘটনা ঘটে যাওয়ায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে, বাকি পলাতক অভিযুক্তদেরও খুব দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।