ভুল বিছানায় ঘুমালেই ডেকে আনছেন মারাত্মক বিপদ! ম্যাট্রেস বদলানোর এই লক্ষণগুলি কি আপনার জানা আছে?

রাতে টানা সাত থেকে আট ঘণ্টা চমৎকার ও গভীর ঘুমিয়েও সকালে ঘুম ভাঙার পর কি আপনার শরীর ভাঙা বা ক্লান্ত লাগে? পিঠ শক্ত হয়ে যাওয়া, ঘাড় ঘোরাতে কষ্ট হওয়া কিংবা কোমরের তীব্র যন্ত্রণা এখন বেশিরভাগ মানুষেরই এক পরিচিত এবং রোজকার যন্ত্রণার সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতিরিক্ত কাজের চাপ বা অনিয়মিত জীবনযাত্রার পাশাপাশি এই ভয়াবহ শারীরিক সমস্যার পেছনে দায়ী থাকতে পারে আপনার ঘরের বহু বছরের পুরনো হয়ে যাওয়া তোশক বা ম্যাট্রেস।
বিছানা পুরনো হয়ে গেলে তার ভেতরের গঠন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মাঝখানের অংশ অতিরিক্ত দেবে যেতে শুরু করে। ফলে ঘুমানোর সময়ে মেরুদণ্ড যে প্রাকৃতিক বাঁক বা সঠিক অ্যালাইনমেন্টে থাকার কথা, তা বজায় রাখা শরীরের পক্ষে একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়ে। শরীরের ভর সমানভাবে না ছড়িয়ে পড়লে পেশিতে মারাত্মক চাপ তৈরি হয় এবং সেখান থেকেই শুরু হয় দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা। সাধারণত একটি ভালো মানের ম্যাট্রেসের আয়ু সাত থেকে দশ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে ফোম, মেমরি ফোম, ল্যাটেক্স কিংবা স্প্রিংয়ের ধরনের ওপর নির্ভর করে এই সময়সীমা কম-বেশি হতে পারে। যদি দেখেন তোশকের স্প্রিং খসখস করছে, ফোম অসমান হয়ে গিয়েছে বা গা এলিয়ে দিলেই ভেতরে শরীর দেবে যাচ্ছে, তবে নতুন কেনার প্রস্তুতি নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
কেবল শারীরিক ব্যথাই নয়, বহু বছরের পুরনো তোশক কিন্তু মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিরও অন্যতম বড় কারণ। প্রতিনিয়ত ব্যবহারের ফলে তোশকের গভীরে কোটি কোটি মৃত কোষ, ঘাম ও সূক্ষ্ম ধূলিকণা জমে তৈরি হয় ডাস্ট মাইটের আখড়া। এর ফলে অনেকের সকালে উঠেই অনবরত হাঁচি, চোখ জ্বালা, ত্বকে চুলকানি বা শ্বাসকষ্টের মতো অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে। সকালে উঠে পিঠ শক্ত লাগার অস্বস্তি যদি বিছানা ছেড়ে কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করার পরই ধীরে ধীরে কমতে থাকে, তবে সতর্ক হওয়া জরুরি। কারণ এই লক্ষণটি নিশ্চিত করে যে সমস্যা আপনার শরীরে নয়, বরং সারা রাত যে ম্যাট্রেসের ওপর শুয়ে ছিলেন তার সাপোর্টের অভাবে হয়েছে। মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সেই পুরনো বিছানা অবিলম্বে পরিবর্তন করা প্রয়োজন।
যদি বাইরে কোথাও ঘুরতে গিয়ে হোটেলের বিছানায় বা অন্য কারও বাড়িতে শুয়ে আপনার ঘুম অনেক বেশি আরামদায়ক ও ব্যথাহীন মনে হয়, তবে নিজের তোশক নিয়ে আর কোনও দ্বিধা রাখবেন না। এর সহজ অর্থ হল আপনার ঘরের ম্যাট্রেসটি তার সহনশীলতা ও আরাম দেওয়ার ক্ষমতা পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছে। এমন পরিস্থিতিতে আর দেরি না করে নতুন ম্যাট্রেস বেছে নেওয়াই হবে সঠিক সিদ্ধান্ত। অনেকেই নির্দিষ্ট সাত বা দশ বছর পূর্ণ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করেন, কিন্তু তোশক খারাপ হয়ে যাওয়ার স্পষ্ট লক্ষণ দেখা দিলে সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি করবেন না। যদি দেখেন তোশকে বড় ধরনের গর্ত হয়ে গিয়েছে, বসার পর আর আগের স্বাভাবিক চেহারায় ফিরছে না কিংবা পিঠের ব্যথা রোজকার সঙ্গী হয়ে উঠছে, তবে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষের আগেই তা বদলে ফেলা দরকার। নতুন ম্যাট্রেস কেনার আগে নিজের শরীরের ওজন, শোওয়ার ধরণ এবং ব্যাক সাপোর্টের প্রয়োজনের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সঠিক সাপোর্ট যুক্ত মাঝারি শক্ত বা অর্থোপেডিক ম্যাট্রেস পেশির ক্লান্তি দূর করে গভীর ঘুমে সাহায্য করে। নিয়মিত ম্যাট্রেস ঘুরিয়ে ব্যবহার করা এবং প্রটেক্টর লাগানো নিশ্চিত করলে বিছানা দীর্ঘ দিন ভালো থাকে ও পিঠের ব্যথা থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়।