ভিনরাজ্যে পালিয়েও রেহাই নেই! আরজি কর কাণ্ডের তদন্তে এবার বেঙ্গালুরু থেকে ধৃত সোমনাথ দে!

আরজি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুন এবং পরবর্তী সময়ে তাঁর দেহ সৎকারের ঘটনায় তদন্তের পরিধি আরও প্রসারিত করল পুলিশ। এই চাঞ্চল্যকর মামলায় ভিনরাজ্যে পালিয়েও শেষরক্ষা হল না। পানিহাটি পুরসভার প্রাক্তন পুর চেয়ারম্যান সোমনাথ দে-কে বৃহস্পতিবার বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতার করেছে খড়দা থানার পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালায় তদন্তকারীরা। আজই তাঁকে বেঙ্গালুরু স্থানীয় আদালতে পেশ করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। এর আগে এই একই মামলায় প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষকে ওড়িশার বালেশ্বর থেকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ, যা রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল ফেলেছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আরজি কর হাসপাতালে মর্মান্তিক ঘটনার পর যখন নির্যাতিতার দেহ সৎকার করা হচ্ছিল, সেই সময় ঘটনাস্থলে ঠিক কারা কারা উপস্থিত ছিলেন, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছিল পুলিশ। সেই পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করতে গিয়েই পানিহাটির প্রাক্তন পুর চেয়ারম্যান সোমনাথ দে’র নাম জোরালোভাবে সামনে আসে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, দেহ সৎকারের পুরো প্রক্রিয়াটির সময় সোমনাথ সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং সেই সময় ধৃত তৃণমূল নেতা নির্মল ঘোষের সঙ্গেও তাঁর যোগাযোগ ছিল। এমনকি জোর করে তড়িঘড়ি সৎকার সম্পন্ন করার যে গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল, সেই প্রেক্ষাপটে তাঁদের প্রকৃত ভূমিকা কী ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন খড়দা থানার তদন্তকারীরা।
ব্যারাকপুর কমিশনারেটের এক দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান যে, এই সমগ্র ঘটনার নেপথ্য সত্য উদঘাটন করতে সোমনাথ দে’কে মুখোমুখি জেরা করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর গতিবিধির ওপর নজর রাখা হচ্ছিল। অবশেষে তাঁর বেঙ্গালুরুতে লুকিয়ে থাকার খবর নিশ্চিত করে খড়দা থানার একটি বিশেষ দল সেখানে অভিযান চালায় এবং তাঁকে পাকড়াও করে। বেঙ্গালুরুর আদালতে পেশ করার পর তাঁকে ট্রানজিট রিমান্ডে কলকাতায় আনা হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। কলকাতার মাটিতে এনে তাঁকে দফায় দফায় জেরা করে দেহ সৎকারের রাতের একাধিক গোপন তথ্য এবং প্রমাণের সন্ধানে নামবেন গোয়েন্দারা।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আরজি কর কাণ্ডের পর থেকে ঘটনার প্রতিটি মোড় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল। বিশেষ করে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধারের পর থেকে সৎকার সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত উপস্থিত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং কোনোভাবে তদন্তের গতিপ্রকৃতি বা তথ্যপ্রমাণ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। সেই ধারাবাহিক তদন্তেরই অঙ্গ হিসেবে সোমনাথ দে’র এই গ্রেফতারি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক ও আইনি বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার বিষয়, জেরা করে তদন্তকারীরা আর কী কী নতুন তথ্যের সন্ধান পান এবং এই সূত্র ধরে আগামী দিনে আরও কার কার নাম এই তদন্তের জালে উঠে আসে।