ভিড়ের চাপে চরম বিপত্তি স্টেশনে! দুর্গাপূজায় পূর্ব রেলের স্টেশনে যা ঘটল, জানলে চমকে যাবেন!

দুর্গাপূজা ২০২৬-এর উৎসবের আনন্দে যখন মেতেছে সমগ্র বাংলা, ঠিক তখনই লাখ লাখ যাত্রীর নিরবচ্ছিন্ন সুস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এক অভূতপূর্ব নজির গড়ল পূর্ব রেলওয়ে। জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পান্ডে এবং প্রিন্সিপাল চিফ মেডিক্যাল ডিরেক্টর (পিসিএমডি) দেবাশিস গুহের যৌথ দূরদর্শী নেতৃত্বে পূর্ব রেলের চার প্রধান অপারেটিং ডিভিশন—হাওড়া, শিয়ালদহ, আসানসোল এবং মালদায় গড়ে তোলা হয় এক দুর্ভেদ্য ও চব্বিশ ঘণ্টার জরুরি চিকিৎসা বলয়।
পূজোর দিনগুলোতে স্টেশনগুলোতে অনাকাঙ্ক্ষিত ভিড় এবং যাত্রীদের হঠাৎ শারীরিক অসুস্থতা সামলাতে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক, ফার্স্ট এইড বুথ এবং অল-টাইম ইমার্জেন্সি মেডিক্যাল রেসপন্স টিম। শিয়ালদহ এবং হাওড়া ডিভিশন সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলে এই সময়ে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শিয়ালদহ, বালিগঞ্জ, বিধাননগর ও দমদমের মতো জনবহুল স্টেশনে মোট ১,১৯৪ জন পূজার্থীকে তাৎক্ষণিক জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়, যার মধ্যে আশঙ্কাজনক ১৩ জনকে এনআরএস ও আরজি করের মতো বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতালে দ্রুত স্থানান্তর করা হয়।
অন্যদিকে, হাওড়া ডিভিশনের হাওড়া, বর্ধমান, ব্যান্ডেল ও রামপুরহাট স্টেশনে প্রায় ৩৯৭ জন যাত্রীকে জরুরি ভিত্তিতে সুচিকিৎসা প্রদান করা হয়। আসানসোল ও মালদা ডিভিশনেও স্থানীয় স্টেট হাসপাতাল ও এইমস-এর সঙ্গে সরাসরি সংযোগ রেখে চব্বিশ ঘণ্টা জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা চালু রাখা হয়, যা ১১ অক্টোবর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিত হয়। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাজি জানান, উৎসবের দিনে প্রতিটি যাত্রীর সুরক্ষাই ছিল রেলের মূল অগ্রাধিকার।