ভিক্ষুক পুনর্বাসন আর স্বেছাসেবী কাজ নয়, রাজ্যের সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা, ঐতিহাসিক রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট

ভিখারিদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্রগুলো কেবল কোনো স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ নয়, বরং এটি রাজ্যের একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব। এই ঐতিহাসিক রায় দিয়ে দেশের সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে ভিখারি আশ্রয়কেন্দ্রগুলির মান উন্নয়নে ব্যাপক সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি জে.বি. পারদিওয়ালা এবং আর. মহাদেবনের একটি বেঞ্চ জানায় যে আশ্রয়কেন্দ্রগুলির অমানবিক পরিস্থিতি শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতাই নয়, এটি নাগরিকদের মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারেরও লঙ্ঘন।
এই রায়টি এমন এক সময়ে এলো, যখন দিল্লির একটি আশ্রয়কেন্দ্রে পানীয় জলের দূষণের কারণে কলেরা ও গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিসের মতো রোগ ছড়িয়ে পড়েছিল। এই ঘটনার পর আদালত বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে এবং বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয়।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী, আশ্রয়কেন্দ্রগুলিতে যে পরিবর্তনগুলো আসবে:
স্বাস্থ্যসেবা: আশ্রয়কেন্দ্রে ভর্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মেডিক্যাল চেকআপ করা বাধ্যতামূলক। মাসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজর রাখতে হবে।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা: পানীয় জল, স্যানিটেশন, টয়লেট এবং মশা-মাছি নিয়ন্ত্রণে ন্যূনতম মান বজায় রাখতে হবে।
আবাসন: প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আবাসন, বাতাস চলাচল এবং খোলা জায়গার ব্যবস্থা থাকবে, যেন অনুমোদিত ক্ষমতার বেশি ভিড় না হয়।
খাদ্য ও পুষ্টি: খাদ্যের মান ও পুষ্টিগুণ যাচাইয়ের জন্য একজন যোগ্য ডায়েটিশিয়ান নিয়োগ করতে হবে।
পুনর্বাসন: ভোকেশনাল ট্রেনিং এবং দক্ষতা উন্নয়ন প্রোগ্রামের মাধ্যমে ভিখারিদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
আইনি সহায়তা: ভিখারিদের আইনি অধিকার সম্পর্কে অবহিত করা হবে এবং প্রতি তিন মাস অন্তর তাদের বিনামূল্যে আইনি সহায়তার ব্যবস্থা থাকবে।
বিশেষ সুবিধা: মহিলা ও শিশুদের জন্য আলাদা সুবিধা, এবং শিশুদের জন্য শিক্ষা ও পরামর্শের ব্যবস্থা করতে হবে।
শিশুদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা: শিশু ভিক্ষুকদের ভিখারি আশ্রয়কেন্দ্রে না রেখে জুভেনাইল জাস্টিস আইন অনুযায়ী শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে পাঠাতে হবে।
ক্ষতিপূরণ ও জবাবদিহি: অবহেলা বা চিকিৎসার অভাবে কারও মৃত্যু হলে রাজ্যকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একই সঙ্গে, দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
আদালত আরও জানিয়েছে, প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই নির্দেশিকা বাস্তবায়নের জন্য একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করতে হবে এবং তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে। সেই সঙ্গে, কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ মন্ত্রককে আগামী তিন মাসের মধ্যে একটি মডেল গাইডলাইন তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সারা দেশে এই নীতিগুলো সমানভাবে কার্যকর হয়।