ভারত-ব্রিটেন ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন, ৩৪ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা, অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লন্ডন সফরে ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (Free Trade Agreement – FTA) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যে বছরে ৩৪ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা বিগত ১০ বছরের মধ্যে ভারতের সঙ্গে ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক চুক্তি। এই চুক্তি দুই দেশের অর্থনৈতিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

মোদী ও স্টারমারের আশাবাদ: কৃষক থেকে আইটি কর্মী, সকলেই লাভবান হবেন
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার উপস্থিত ছিলেন। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং ব্রিটেনের বিজনেস সেক্রেটারি জনাথন রেনডস এই চুক্তির মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদী এই চুক্তি নিয়ে গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, এটি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে। তাঁর মতে, এই চুক্তির ফলে কৃষক থেকে শুরু করে ছোট ব্যবসায়ী – সকলেই লাভবান হবেন। ভারত থেকে ব্রিটেনে কাপড়, রত্ন, গয়না, সামুদ্রিক খাবার, লেদারের সরঞ্জাম, ইঞ্জিনিয়ারিং সামগ্রী এবং তৈরি করা খাবার সুলভ মূল্যে লেনদেন করা হবে।

অন্যদিকে, ব্রিটেন থেকে ভারতে আসবে বিভিন্ন চিকিৎসার সরঞ্জাম, গাড়ির যন্ত্রাংশ, গাড়ি, মদ, চকোলেট এবং মেকআপের সরঞ্জাম। এই পণ্যগুলি ভারতে ১৫ থেকে ৩ শতাংশ কম দামে পাওয়া যাবে।

করছাড় ও ভিসার সুবিধা: ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিগুণ বাণিজ্যের লক্ষ্য
ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই চুক্তির ফলে দুই দেশের অর্থনীতি অনেকটাই মজবুত হবে। চুক্তির আওতায় দুই দেশের মধ্যে করছাড়ের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে এবং প্রয়োজনীয় ভিসাতেও ছাড়ের সুবিধা মিলবে, যা দুই দেশের ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের জন্য সুবিধাজনক হবে।

বিশেষ করে ব্রিটেনের বাজারে ভারতের লেদার শিল্পকে আরও বেশি করে নিয়ে যাওয়ার উপর জোর দেওয়া হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই বাণিজ্য প্রায় দ্বিগুণ হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ভারতের দক্ষ কারিগররা যাতে ব্রিটেনে গিয়ে কাজ করতে পারেন, সেদিকেও এই চুক্তিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভারতের ৩৫টি সেক্টর যাতে ব্রিটেনে কাজ করতে পারে, সেই বিষয়টিও এই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত। ফ্রিল্যান্সার, রাঁধুনি, মিউজিশিয়ান, যোগ শিক্ষক এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা এবার নতুন করে কাজের সুযোগ পাবেন। এর পাশাপাশি, প্রতি বছর প্রায় ৬০ হাজার আইটি কর্মী ব্রিটেনের সঙ্গে কাজ করতে পারবেন, যেখানে টিসিএস, ইনফোসিস, টেক মাহিন্দ্রা, এইচসিএল এবং উইপ্রো-এর মতো ভারতের প্রথম সারির আইটি প্রতিষ্ঠানগুলি বিরাট ভূমিকা নেবে।

ব্রিটেনের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি
যারা ব্রিটেনে গিয়ে সাময়িকভাবে কাজ করতে চান, তারাও এই চুক্তির ফলে সেটি করতে পারবেন। অন্যদিকে, ব্রিটেন থেকে যে সামগ্রী ভারতে আসবে, সেখানে ভারী করছাড় মিলবে, যা আগামী ১০ বছর পর্যন্ত বজায় থাকবে। ব্রিটেনের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ভারতে এসে ব্যবসা করার সুযোগ পাবে, যা ভারতীয়দের জন্য কাজের সুযোগ বৃদ্ধি করবে।

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই চুক্তিকে একটি বিরাট সাফল্য হিসেবে দেখছেন। তিনি জানিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে এই চুক্তি ব্রিটেনের অর্থনীতিকেও মজবুত করবে। সেখানকার ২৬টি প্রতিষ্ঠান ভারতে এসে ব্যবসা করবে, ফলে ভারত ও ব্রিটেনের অর্থনীতিতে এক বিরাট জোয়ার আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। এই ঐতিহাসিক চুক্তি বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারত ও ব্রিটেনের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।