ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের অবনতি জল্পনা উড়িয়ে দিল ‘জ্যাভলিন’! কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য এই অস্ত্র কেন আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ‘গেম-চেঞ্জার’?

ভারত এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায়, ভারত অ্যাপাচি হেলিকপ্টার এবং অত্যাধুনিক জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা (Javelin anti-tank missile) পেতে চলেছে, যা ট্যাঙ্ক এবং হেলিকপ্টারের মতো সামরিক লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে। এই চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সেই বক্তব্যই প্রমাণিত হলো, যেখানে তিনি ভারতের মূল্যে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় না রাখার বার্তা দিয়েছিলেন।ভারতের হাতে আসতে চলা এই জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার শক্তি সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:⚔️ জ্যাভলিন ক্ষেপণাস্ত্রের শক্তি ও বৈশিষ্ট্যFGM-148 জ্যাভলিন হলো একটি আমেরিকান-নির্মিত, কাঁধ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ‘ফায়ার-এন্ড-ফোরগেট’ অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইল সিস্টেম (ATGM)। ১৯৯৬ সালে M47 ড্রাগন প্রতিস্থাপনের জন্য এটি মার্কিন সেনাবাহিনীতে ব্যবহৃত হয়।বৈশিষ্ট্যবিবরণগুরুত্বফায়ার অ্যান্ড ফরগেটঅপারেটর একবার কমান্ড লঞ্চ ইউনিট (CLU) ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তুতে লক করলে, ক্ষেপণাস্ত্রটি ইমেজিং ইনফ্রারেড (IIR) হোমিং ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হয়।নিক্ষেপকারী সৈনিক সঙ্গে সঙ্গে কভার নিতে বা পরবর্তী ক্ষেপণাস্ত্র লোড করতে পারে।দ্বৈত আক্রমণ মোডশীর্ষ আক্রমণ: ১৫০ মিটার উচ্চতায় উঠে ট্যাঙ্কের সবচেয়ে দুর্বল উপরের অংশে আঘাত করে। সরাসরি আক্রমণ: ৬০ মিটার উচ্চতায় সমতল পথ ধরে উড়ে গিয়ে বাঙ্কার, দুর্গ বা হেলিকপ্টারে আঘাত করে।এটি ট্যাঙ্কের সর্বোচ্চ দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে ধ্বংস নিশ্চিত করে।কার্যকর রেঞ্জস্ট্যান্ডার্ড কার্যকর রেঞ্জ প্রায় ২,৫০০ মিটার (১.৬ মাইল)। নতুন সংস্করণ (LWCLU) ব্যবহার করে এর রেঞ্জ ৪,০০০ মিটার (২.৫ মাইল) বা তার বেশি বৃদ্ধি করা হয়েছে।দীর্ঘ দূরত্ব থেকে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার ক্ষমতা।বহন ও পরিচালনাসম্পূর্ণ সিস্টেমটির ওজন মাত্র ২২.৩ কিলোগ্রাম (৪৯ পাউন্ড)। এটি সহজেই একজন একক সৈনিক দ্বারা পরিচালিত হতে পারে।এর বহনযোগ্যতা আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এটিকে অত্যন্ত মোবাইল করে তুলেছে।🛰️ অস্ত্র নয়, নজরদারির সরঞ্জামওজ্যাভলিন ব্যবস্থা কেবল ট্যাঙ্ক-বিধ্বংসী অস্ত্র নয়, এটি নজরদারির জন্যও ব্যবহার করা যেতে পারে। এর কমান্ড লঞ্চ ইউনিট (CLU) হলো এর অত্যাধুনিক লক্ষ্যবস্তু উপাদান, যা ডে এবং থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরা উভয়ই দিয়ে সজ্জিত। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সিএলইউ ক্ষেপণাস্ত্র ছাড়াই যুদ্ধক্ষেত্রের নজরদারির কাজে লাগানো যেতে পারে।লকহিড মার্টিন এবং রেথিয়নের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এই ক্ষেপণাস্ত্রটি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে কার্যকর ট্যাঙ্ক-বিধ্বংসী অস্ত্রগুলির মধ্যে একটি এবং ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।