ভারতের মাটিতে ডাবল প্লেনের রহস্য ফাঁস! পুতিনের এই মারাত্মক কায়দা দেখে চোখ কপালে বিশ্ববাসীর

ভারতের মাটিতে ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে এসে বিশ্ব রাজনীতিতে ফের একবার চর্চ কেন্দ্রে চলে এলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিন দিনের বিশেষ সফরে যখন তিনি নয়াদিল্লিতে অবতরণ করেন, তখন তাঁর নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং ব্যবহৃত বিমানের অভিনব কৌশল আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজর কেড়ে নেয়। যেকোনো সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি ও শত্রুপক্ষের বিভ্রান্তি এড়াতে পুতিন ভারতে আসার সময় দুটি সম্পূর্ণ হুবহু দেখতে বিমান ব্যবহার করেন, যার একটিতে তিনি নিজে সওয়ার ছিলেন এবং অন্যটি ‘ডিকয়’ (Decoy) বা ফাঁদ হিসেবে আকাশে ওড়ে। বিশ্বজুড়ে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে মোড়া পুতিনের এই বিশেষ কাস্টমাইজড বিমানটিকে বলা হয় ‘ইলিউশিন IL-96-300PU’, যা আন্তর্জাতিক মহলে ‘ফ্লাইং ক্রেমলিন’ বা ‘ডুমসডে প্লেন’ নামেই সর্বাধিক পরিচিত।
অতি গোপনীয়তা ও দুর্ভেদ্য সুরক্ষাবলয়ে ঘেরা এই ‘ফ্লাইং ক্রেমলিন’ মূলত একটি চলমান মোবাইল কমান্ড সেন্টার। জরুরি অবস্থা কিংবা চরম যুদ্ধের পরিস্থিতিতে আকাশ থেকেই গোটা দেশ পরিচালনা করার ক্ষমতা রাখে এই বিমান। এর ভেতরে রয়েছে সম্পূর্ণ এনক্রিপ্টেড এবং বিশ্বমানের উপগ্রহ ও রেডিও যোগাযোগের নিরাপদ ব্যবস্থা। শত্রুপক্ষের রাডার ফাঁকি দিতে এবং যেকোনো মিসাইল হামলা প্রতিহত করতে এই বিমানে ইনস্টল করা হয়েছে অত্যাধুনিক রাডার-জামিং প্রযুক্তি ও অ্যাডভান্সড ডিফেন্সিভ সিস্টেম। শক্তিশালী ‘Avia-dvigatel PS-90A’ টার্বোফ্যান ইঞ্জিনচালিত এই বিমানটি একবার জ্বালানি ভরলে প্রায় ১১,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত একটানা পথ অতিক্রম করতে সক্ষম, যার ফলে দীর্ঘ সফরে বারবার রিফুয়েলিংয়ের প্রয়োজন পড়ে না। প্রায় ৫৫.৩৫ মিটার লম্বা এবং ৬০.১২ মিটার উইংস্প্যানের এই বিমানটি পরিচালনা করে রাশিয়ার বিখ্যাত ‘স্পেশাল ফ্লাইট স্কোয়াড্রন’। নিরাপত্তার পাশাপাশি এই বিমানের অন্দরমহলও চরম বিলাসবহুল। ভেতরে রয়েছে রাজকীয় সুইট, বেডরুম, বাথরুম, নিজস্ব কিচেন, ডাইনিং এরিয়া এবং একটি হাই-টেক কনফারেন্স রুম। বিমানের আসবাবপত্র ও ফিটিংস তৈরিতে খাঁটি সোনার প্রলেপ, দামি কাঠ এবং প্রিমিয়াম লেদারের ব্যবহার করা হয়েছে।
বিমানের পাশাপাশি দিল্লির মাটিতে পুতিনের যাতায়াতের বিশেষ বুলেটপ্রুফ গাড়ি নিয়েও শুরু হয়েছে তুমুল জল্পনা। বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে বিদেশ সফরে গেলে পুতিন নিজের দেশ থেকে উড়িয়ে আনা সাঁজোয়া লিমুজিন ‘আউরুস সেনাট’-এ করেই যাতায়াত করেন। প্রায় দুই ডজন হাই-সিকিউরিটি গাড়ির কনভয় নিয়ে চলা এই অত্যাধুনিক গাড়িটিকে বলা হয় আক্ষরিক অর্থেই এক ‘চলমান দুর্গ’। সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার পর দিল্লির মাটিতেও মোদী, শি জিনপিং এবং পুতিনকে এক ফ্রেমে দেখার অপেক্ষায় রয়েছে গোটা বিশ্ব। পশ্চিমা বিশ্ব এবং আমেরিকার কড়া নজর এড়িয়ে এই শীর্ষ সম্মেলন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।