আর নয় জন্ম শংসাপত্র হারানোর ভয়! কীভাবে তুলবেন ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেট? জেনে নিন খুঁটিনাটি

ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগে জন্ম শংসাপত্র বা বার্থ সার্টিফিকেট বর্তমানে ভোটার কার্ড বা আধার কার্ডের মতোই অন্যতম একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য আইনি দলিল হয়ে উঠেছে। দেশের যেকোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেতে, স্কুলে ভর্তি থেকে শুরু করে পাসপোর্টের আবেদন—সব ক্ষেত্রেই বার্থ সার্টিফিকেট একটি আবশ্যিক নথি। বিশেষ করে যাদের এখনো ভোটার কার্ড তৈরি হয়নি বা যাদের বয়স আঠারো বছরের কম, তাদের জন্য জন্মের শংসাপত্র প্রধান ডকুমেন্টের ভূমিকা পালন করে। কিন্তু অনেক সময় অসাবধানতা বশত এই গুরুত্বপূর্ণ কাগজ হারিয়ে যাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়। এই সমস্ত ঝামেলা এড়াতেই এখন প্রতিটি নাগরিকের জন্য ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেট থাকা অত্যন্ত জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ কাগজের বা হাতে লেখা জন্ম শংসাপত্রের পরিবর্তে ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেট তৈরির ওপর ব্যাপক জোর দেওয়া হচ্ছে। কারণ, পুরোনো হাতে লেখা সার্টিফিকেট জাল কি না তা যাচাই করা অত্যন্ত দুরূহ ব্যাপার, যার ফলে অনেক সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানই তা গ্রহণ করতে চায় না। পাশাপাশি, এই কাগজের দলিল ছিঁড়ে বা হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে প্রচুর। অন্যদিকে, আধুনিক কম্পিউটারাইজড ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেটে বিশেষ কিউআর কোড (QR Code) এবং নিরাপদ ডিজিটাল সিগনেচার বা ডিজিটাল স্বাক্ষর যুক্ত থাকে। এর ফলে যেকোনো সরকারি দপ্তরে ওই কিউআর কোড স্ক্যান করলেই মুহূর্তের মধ্যে সমস্ত আসল তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়। এই কারণেই ডিজিটাল শংসাপত্রের গ্রহণযোগ্যতা এবং কদর দিন দিন হু হু করে বাড়ছে।

ঘরে বসে খুব সহজেই এই ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেট তৈরি করার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি জেনে নেওয়া যাক। প্রথমে নিজের মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউজার খুলে অফিশিয়াল পোর্টাল orgi.gov.in-এ প্রবেশ করতে হবে। এরপর হোমপেজে থাকা ‘জেনারেল পাবলিক সাইন আপ’ অপশনে ক্লিক করে নিজের নাম, সক্রিয় ইমেল আইডি এবং মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন সফল হলে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি (OTP) আসবে, যা দিয়ে পোর্টালটি ভেরিফাই করতে হবে। এরপর পোর্টালের ড্যাশবোর্ডে গিয়ে ‘বার্থ’ অপশন থেকে ‘অ্যাড ওল্ড বার্থ ইভেন্ট’ সিলেক্ট করতে হবে। সেখানে সমস্ত সঠিক তথ্য পূরণ করে পুরোনো জন্ম শংসাপত্রের স্ক্যান কপি এবং বাবা-মায়ের বৈধ পরিচয়পত্র আপলোড করতে হবে। সমস্ত তথ্য পুনরায় ভালোভাবে যাচাই করে আবেদন জমা দেওয়ার ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই আপনার হাতে চলে আসবে সম্পূর্ণ বৈধ ডিজিটাল বার্থ সার্টিফিকেট।