‘আমার মতো অবিবাহিত না হলে কাউকে রাখতাম না!’ রাজনীতিতে পরিবারবাদ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য মায়াবতীর

বহুজন সমাজ পার্টি (BSP)-র সুপ্রিমো তথা উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী শনিবারে পরিবারবাদের অভিযোগে ইতি টানতে এক অত্যন্ত কঠোর ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁর ছোট ভাই আনন্দ কুমারের দুই ছেলে আকাশ আনন্দ এবং ঈশান আনন্দকে ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে বা বিএসপি দলের সংগঠনে কোনো ছোট বা বড় পদে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হবে না। বিগত কিছুদিন ধরেই আকাশ আনন্দ ও ঈশান আনন্দকে দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া ঘিরে রাজনৈতিক মহলে পরিবারবাদ নিয়ে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছিল, যার কড়া জবাব দিলেন খোদ মায়াবতী।

নিজের এক্স (Twitter) হ্যান্ডেলে একটি দীর্ঘ পোস্টে মায়াবতী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত কাশীরামের আদর্শের অনুসারী এবং সর্বদা পরিবারতন্ত্রের বিরোধী। তিনি লিখেছেন, যদি তিনি নারী ও অবিবাহিত না হতেন, তবে ভাইবোনদের কাউকেই নিজের রাজনৈতিক কার্যক্রমে পাশে রাখতেন না। একমাত্র অবিবাহিত হওয়ার কারণেই বাধ্য হয়ে তিনি তাঁর ছোট ভাই আনন্দ কুমারকে নিজের দেখাশোনার পাশাপাশি দলের কিছু দায়িত্ব সামলানোর জন্য রেখেছিলেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আনন্দ কুমারের দুই ছেলের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় এবং তাদের ঘিরে নানা বিতর্ক তৈরি হওয়ায় মায়াবতী কঠিন হাতে দল পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেন।

মায়াবতী দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, তিনি কারও ব্যক্তিগত মোহে পড়ে দলের নীতি ও আদর্শকে জলাঞ্জলি দিতে এবং বিএসপির ক্ষতি হতে দেবেন না। এটি তাঁর শেষ সিদ্ধান্ত এবং কঠোর প্রতিজ্ঞা যে, আনন্দ কুমারের কোনো ছেলেই ভবিষ্যতে দলে কোনো রাজনৈতিক পদ পাবে না। তবে আনন্দ কুমারকে ব্যক্তিগত সহায়তার প্রয়োজন হলে তিনি তাঁর ছোট মেয়ে তথা লন্ডন প্রবাসী আইনের ছাত্রী কুমারী দীপিকা আনন্দের সাহায্য নিতে পারেন। দীপিকার সততা, নিষ্ঠা ও কর্মদক্ষতা বিচার করেই ভবিষ্যতে তাঁকে দলের নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়ার কথা বিবেচনা করা হতে পারে। উল্লেখ্য, এর আগে আকাশ আনন্দকে উত্তরপ্রদেশ ও অন্য রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে বড় দায়িত্ব দেওয়া হলেও এবং পরবর্তী সময়ে তাঁকে দল থেকে একাধিকবার অব্যাহতি দেওয়া হলেও, এবার পুরো পরিবারকে দলীয় পদের বাইরে রাখার এই কঠোর ঘোষণা আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।