ভারতের কাঁটাতারে আটকে ১৩০ হাতি! সীমান্তে চরম সংকটে বাংলাদেশ, কূটনীতির টেবিলে কী চলছে?

ভারতের মেঘালয় সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের বাংলাদেশ অংশে গত কয়েক বছর ধরে আটকা পড়ে রয়েছে ১৩০টির বেশি বন্য হাতি। দুই দেশের যাতায়াতের ঐতিহ্যবাহী পথগুলোতে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং ভারতের অংশে কাজুবাদাম চাষ হওয়ায় এই জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

জামালপুরের বকশিগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকায় একসময় হাতি চলাচলের জন্য ৪৪টি গেট ও ১১টি জলপথ ছিল। কিন্তু ভারতীয় অংশে পথগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাতিগুলো আর আগের মতো যাতায়াত করতে পারছে না। ফলে বাংলাদেশ অংশেই তাদের সংখ্যা বেড়ে ১৩০-১৩৫টিতে দাঁড়িয়েছে। খাবার ও পানির তীব্র সংকটে এই বন্য হাতিগুলো প্রায়শই লোকালয়ে নেমে আসছে, যার জেরে শেরপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে তীব্র হাতি-মানুষ সংঘাত তৈরি হয়েছে।

গত এক যুগে এই সীমান্ত অঞ্চলে অন্তত ৩৫টি হাতির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। কৃষকরা ফসল বাঁচাতে বৈদ্যুতিক তারের বেড়া দেওয়ায় অনেক হাতি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যাচ্ছে। অন্যদিকে, স্থানীয়রা মশাল ও পটকা ফুটিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করছেন। এই সংকট নিরসনে বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যেই কূটনৈতিক পর্যায়ে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বেগ জানিয়েছে। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুন্দরবনের বাঘের মতো এই বন্য হাতিগুলির জন্যও সীমান্ত উন্মুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে ভারতের পক্ষ থেকে এখনও কোনো সুনির্দিষ্ট সাড়া মেলেনি। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দুই দেশ দ্রুত যৌথ পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে।