ভারতেও কি নিষিদ্ধ হতে চলেছে সোশ্যাল মিডিয়া? ১৮ বছরের কম বয়সিদের নিয়ে কেন্দ্রের বড় পদক্ষেপ

ভারতেও কি এবার নিষিদ্ধ হতে চলেছে সোশ্যাল মিডিয়া? সোমবার সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রের একটি বার্তার পর দেশজুড়ে এই জল্পনা শুরু হয়েছে। শীর্ষ আদালতে একটি শুনানির সময় কেন্দ্রের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তারা আইটি ইন্টারমিডিয়ারি বিধি সংশোধন করার পরিকল্পনা করছে। এই সংশোধনীর মূল উদ্দেশ্য হলো, ১৮ বছরের কম বয়সী কেউ যাতে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খুলতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।

‘জাস্ট রাইটস ফর চিলড্রেন অ্যালায়েন্স’ নামের একটি এনজিও-র দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতেই কেন্দ্র এই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান নিয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিশোর-কিশোরীদের ক্রমবর্ধমান সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার এবং তার প্রভাব নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ ও আবেদনকারী যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তার সঙ্গে কেন্দ্রও পুরোপুরি একমত পোষণ করেছে।

শুনানি চলাকালীন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মন্তব্য করেন যে, এই সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থাগুলি আমেরিকার আইনের আওতায় রেজিস্টার্ড। আমেরিকার প্রযোজ্য বিধিনিষেধগুলি ভারতীয় ডিজিটাল পরিসরে যেভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে, তা ভারতীয় আইনের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।

এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাও সম্পূর্ণ সম্মতি জানান। তিনি জানান, ওই সংস্থাগুলিকে অবশ্যই ভারতীয় আইন মেনে চলতে হবে। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই এবং দেশের আইন অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ করা হবে। তবে শিক্ষামূলক ওয়েবসাইটগুলির ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিভাবকদের সম্মতিতে সেগুলিতে প্রবেশাধিকার বজায় রাখা যেতে পারে।

কিশোর-কিশোরীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের এই ভাবনা শুধু ভারতেই সীমিত নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারই কমবয়সিদের মানসিক স্বাস্থ্য ও অনলাইন আসক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। গত বছরের ১০ ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে। সেখানে ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, টিকটক এবং ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট ব্লক করার নির্দেশ দেওয়া হয়। অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও গ্যাবনের মতো দেশগুলিও কিশোর-কিশোরীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কড়াকড়ি বা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।