ভয়ঙ্কর পরিসংখ্যান: সেপ্টেম্বর মাসের শুরু থেকেই দিল্লি-এনসিআর জুড়ে পরপর ১৩টি যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের ঘটনায় নড়েচড়ে বসল দেশের শীর্ষ আদালত।

দিল্লি ও জাতীয় রাজধানী অঞ্চলে একের পর এক নৃশংস অপরাধের ঘটনায় এবার সরাসরি হস্তক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম কুড়ি দিনে এই অঞ্চলে নারী ও শিশুদের ওপর মোট ১৩টি ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। এর মধ্যে आस्था कुंज পার্কের পাশবিক কাণ্ড থেকে শুরু করে চলন্ত বাসে নাবালিকার ওপর হামলা—সব মিলিয়ে রাজধানী এবং এর আশপাশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ফের একবার বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

সোমবার এই গোটা পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি জেবি পার্দিওয়ালা এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ এই ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত বা সুয়ো মটো মামলা দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে। আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, অন্ধকারাচ্ছন্ন রাস্তাঘাট, পর্যাপ্ত সিসিটিভির অভাব কিংবা পুলিশের গাফিলতির কারণে জনবহুল বা উন্মুক্ত স্থানগুলিকে অপরাধীদের আখড়া হতে দেওয়া যাবে না।

প্রশাসনের জবাবদিহি ও সুরক্ষার রূপরেখা

এদিন মামলার শুনানিতে বিচারপতির মুখে উঠে আসে ২০১২ সালের সেই মর্মান্তিক নির্ভয়াকাণ্ডের কথা। আদালতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানতে চাওয়া হয়, একটি দশক পেরিয়ে গেলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা পুলিশ প্রশাসনের কার্যকারিতায় কতটা পরিবর্তন এসেছে? কেবল ঘটনা ঘটার পর দুঃখ প্রকাশ করা বা শোকবার্তা দেওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং অপরাধের উৎস মুখ বন্ধ করতে হবে।

শীর্ষ আদালতের নির্দেশিকায় বেশ কিছু জরুরি পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে:

  • সংবেদনশীল ও অন্ধকারাচ্ছন্ন এলাকাগুলিতে পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইটের ব্যবস্থা।

  • পার্ক, মেট্রো স্টেশন, ফুটব্রিজ এবং প্রধান সড়কে সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি বাড়ানো।

  • অপরাধপ্রবণ জোনগুলিতে নিয়মিত এবং কড়া পুলিশি পেট্রোলিং।

  • গণপরিবহনে নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য কঠোর মনিটরিং।

রাজধানীর বুকে অপরাধের তালিকা দীর্ঘতর

তালিকায় দেখা যাচ্ছে, গত কয়েক দিনে অপরাধের গ্রাফ কতটা উর্ধ্বমুখী। ২ সেপ্টেম্বর গুরুগ্রামে পাঁচ বছরের শিশুর ওপর অত্যাচার থেকে শুরু করে গাজিয়াবাদে গণধর্ষণের অভিযোগ, কিংবা ১০ সেপ্টেম্বর স্কুল ক্যাব চালকের বিরুদ্ধে ৪ বছরের শিশুর যৌন শোষণের মতো ঘটনা সামনে এসেছে। এমনকি ১২ সেপ্টেম্বর স্বরূপ নগরে ১৬ বছরের কিশোরীকে গণধর্ষণের পর হত্যার মতো নৃশংস ঘটনাও ঘটল।

আদালত মনে করিয়ে দিয়েছে, সংবিধানের ২১ নম্বর ধারা অনুযায়ী দেশের প্রতিটি নাগরিকের নির্ভয়ে চলাফেরা করার মৌলিক অধিকার রয়েছে। কিন্তু অপরাধের এই পরিসংখ্যান সেই নিরাপত্তাকেই চরম চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। এখন দেখার, শীর্ষ আদালতের এই কঠোর পদক্ষেপের পর পুলিশ প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ঠিক কী ধরণের কার্যকর ভূমিকা নেয়।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: রাজধানী অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান অপরাধের এই চিত্র কেবল আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার ব্যর্থতাই নয়, এটি সমাজের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা। অপরাধ রোধ করতে হলে নজরদারির পাশাপাশি মানসিকতার পরিবর্তনও সমানভাবে জরুরি।

এই বিষয়ে আপনার কী মত? দিল্লির এই নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আপনার কোনো মতামত থাকলে আমাদের কমেন্ট করে জানান।