ব্রেকআপ নয়, ব্লকও করেননি! জেন জি-দের মধ্যে হু হু করে বাড়ছে নতুন এই ডেটিং ট্রেন্ড, আসল মানে জানলে চমকে যাবেন!

ঘোস্টিং, ব্রেডক্রাম্বিং বা বেনচিং-এর মতো শব্দগুলোর সঙ্গে ডেটিং দুনিয়া ইতিমধ্যেই পরিচিত। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের প্রেমের সমীকরণ প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে। আধুনিক ডেটিং ডিকশনারিতে এবার যুক্ত হলো একেবারে নতুন এক ট্রেন্ড—‘ডায়াল-টোনিং’। জেন জি (Gen Z)-দের মধ্যে এই অদ্ভুত প্রবণতা এখন হু হু করে ভাইরাল।

আসলে কী এই ‘ডায়াল-টোনিং’?
সহজ কথায়, ডায়াল-টোনিং হলো এমন একটি পরিস্থিতি, যখন দুজন মানুষের মধ্যে সমস্ত রকম যোগাযোগ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। না আছে রোজকার চ্যাট, না দেখা করার তাগিদ, আর না কোনো ফোন কল। সম্পর্কটা একপ্রকার ভাঙার মুখে বা শেষের পথে। কিন্তু তারপরেও আশ্চর্যের বিষয় হলো, কেউ কাউকে আনফলো করছেন না, ব্লক করছেন না কিংবা ডেটিং অ্যাপে আনম্যাচও করছেন না। ল্যান্ডলাইনে যেমন ডায়াল টোন বাজতেই থাকে কিন্তু ওপার থেকে কেউ ফোন তোলে না—ঠিক তেমনই এই সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা।

কেন বাড়ছে এই প্রবণতা?
মনোবিদ ও সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর নেপথ্যে কাজ করছে জেন জি-দের কিছু নির্দিষ্ট মানসিকতা:

দরজা খোলা রাখা: জেন জি-রা সাধারণত কোনো সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ করে দিতে ভয় পান। তাদের মনে হয়, ভবিষ্যতে যদি আবার কথা বলতে ইচ্ছে করে! তাই ব্লক না করে তারা এটিকে একটি ইমোশনাল সেফটি নেট বা বিকল্প হিসেবে বাঁচিয়ে রাখেন।

সংঘর্ষ এড়ানো: সরাসরি “আমি আর এই সম্পর্কে থাকতে চাই না” কথাটি বলার সাহস বা ইচ্ছা অনেকেরই থাকে না। সেই কঠিন কথোপকথন ও ঝামেলা এড়ানোর সহজ রাস্তা হলো এই ডায়াল-টোনিং।

সোশ্যাল মিডিয়া ভ্যালিডেশন: অনেক সময় মানুষটি অপছন্দের হলেও তার সোশ্যাল মিডিয়া আপডেট বা লাইফস্টাইল ট্র্যাক করা একটা অভ্যাসে পরিণত হয়। আনম্যাচ করলে সেই কৌতূহল মেটানো সম্ভব নয়, তাই চুপচাপ ফলো করে যাওয়া চলে।

এটি কি সম্পর্কের জন্য স্বাস্থ্যকর?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াল-টোনিং মোটেও কোনো স্বাস্থ্যকর বা পজিটিভ লক্ষণ নয়। এর ফলে দুপক্ষের মনেই এক অদ্ভুত মানসিক টানাপোড়েন ও দ্বিধা তৈরি হয়। সম্পর্কটা শেষও হয় না, আবার এগিয়েও চলে না। এর জেরে দ্রুত ‘মুভ অন’ করা বা মানসিকভাবে বেরিয়ে আসা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সম্পর্ক যদি সত্যিই আর না টেকে, তবে রাখঢাক না রেখে সরাসরি কথা বলে একটি পরিষ্কার ইতি টানাই বুদ্ধিমানের কাজ।