কলের জল কি সত্যিই জীবাণুমুক্ত? বিশ্ব জল সপ্তাহে উঠে এল মারাত্মক তথ্য, বড় বিপদের মুখে গ্রামবাংলা!

মানবজীবনের অগ্রগতির প্রধান সূচক হলো জল। সম্প্রতি সুইডেনে আয়োজিত বিশ্ব জল সপ্তাহে এই বার্তাটিকেই সামনে রেখে পালিত হলো বিশেষ সম্মেলন। সেখানে অতিথি বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইন্ডিয়া এভিডেন্স অ্যাকশন প্রোগ্রামের ডিরেক্টর বিমলেশ কুমার। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকট কীভাবে অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি তীব্র রূপ নিচ্ছে, তা উঠে এসেছে এই বৈঠকে।
বিশ্ব জল সপ্তাহের মূল চ্যালেঞ্জ ও বর্তমান পরিস্থিতি
বর্তমানে গ্রামীণ এলাকায় নলকূপ বা ট্যাপের মাধ্যমে জল পৌঁছে দেওয়ার পরিকাঠামো অনেকটাই বিস্তৃত হয়েছে। কিন্তু জলের সহজলভ্যতাই সব সমস্যার সমাধান নয়; ব্যবহারের সময় সেই জল সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত রাখাটাই এখন জনস্বাস্থ্য এবং মৌলিক সুরক্ষার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জল যদি পানযোগ্য না হয়, তবে তা যে কোনও মুহূর্তে বড় ধরনের স্বাস্থ্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
সমাধান হিসেবে উঠে এল ‘ইন-লাইন ক্লোরিনেশন’
এই মারাত্মক সংকট মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা ও গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বিশেষ করে জলবাহিত রোগজীবাণু দূর করতে এবং পাইপলাইন কিংবা গৃহস্থালির জলের পাত্রে পুনরায় দূষণ রোধ করতে ‘ইন-লাইন ক্লোরিনেশন’ পদ্ধতিকে সবচেয়ে কার্যকর, সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য সমাধান হিসেবে তুলে ধরেছেন এভিডেন্স অ্যাকশনের ডিরেক্টর বিমলেশ কুমার।
তাঁর মতে, বিশাল গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ জল নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই স্বয়ংক্রিয় ক্লোরিনেশন পদ্ধতিই হলো সবচেয়ে বাস্তবসম্মত ও তথ্য-প্রমাণভিত্তিক পথ। বিশ্ব জল সপ্তাহের এই মঞ্চ থেকে তাই প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার ওপর আরও বেশি জোর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।