পাহাড়ের পঞ্চায়েতে কড়া স্ক্যানার! ১০% পঞ্চায়েতে শুরু স্পেশাল অডিট, দুর্নীতি নিয়ে দিলীপ ঘোষের চরম হুঁশিয়ারি

গ্রামীণ উন্নয়নমূলক কাজে কোনো ধরণের অনিয়ম বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না—শনিবার শিলিগুড়ির ‘উত্তরকন্যা’-য় দাঁড়িয়ে এই কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও ডুয়ার্স অঞ্চলের উন্নয়নকাজের পর্যালোচনায় একটি প্রশাসনিক রিভিউ মিটিং-এর আয়োজন করা হয়। সেই বৈঠক শেষেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পঞ্চায়েত স্তরের দুর্নীতি রুখতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
পাহাড়ের ১০ শতাংশ পঞ্চায়েতে স্পেশাল অডিট
মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ স্পষ্টভাবে জানান, জিটিএ (GTA) এলাকা সহ পাহাড়ের যেসব পঞ্চায়েতে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, সেগুলিতে বিশেষ হিসাব পরীক্ষা বা স্পেশাল অডিট চালানো হচ্ছে। অন্তত ১০ শতাংশ পঞ্চায়েতকে এই স্পেশাল অডিটের আওতায় আনা হয়েছে। জিটিএ-র নতুন প্রধান ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিকাঠামোগত ফাঁকফোকর পূরণের কাজ দ্রুত গতিতে চালানো হচ্ছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
১১ হাজার শূন্যপদে নিয়োগ ও উন্নয়নকাজের পর্যালোচনা
উত্তরবঙ্গের শাখা সচিবালয় ‘উত্তরকন্যা’-র এই বৈঠকে দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলার একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত দফতরের দুই প্রতিমন্ত্রী শান্তনু প্রামাণিক ও আনন্দময় বর্মন সহ রাজ্য ও জেলা স্তরের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তারা।
মন্ত্রী জানান:
গরিব কল্যাণ প্রকল্প: আবাসন যোজনা, স্বচ্ছ ভারত মিশন, শৌচালয় নির্মাণ এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (SHG) মতো প্রকল্পে রাজ্য বিপুল অর্থ বরাদ্দ করলেও কাজের গতি কিছু জায়গায় আশানুরূপ নয়।
সমস্যার কারণ: পাহাড়ের প্রতিকূল আবহাওয়া, দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান এবং পর্যাপ্ত কর্মচারীর অভাবের কারণে কাজ কিছুটা ধীরগতিতে চলছে। সমস্যা সমাধানে প্রতিটি বিডিও-কে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়োগ: পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরে প্রায় ১১ হাজার শূন্যপদ রয়েছে। প্রশাসনিক কাজ সচল রাখতে খুব দ্রুত সেখানে লোক নিয়োগের উদ্যোগ নেবে রাজ্য সরকার।
উপনির্বাচন ও রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে প্রতিক্রিয়া
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দিলীপ ঘোষ বলেন, “মানুষ বাংলায় পরিবর্তন এনেছেন এবং তারা উন্নয়ন চান। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্যজুড়ে যে জনমুখী কাজ চলছে, তাতে মানুষ সন্তুষ্ট।” আসন্ন উপনির্বাচনেও এই উন্নয়নমূলক কাজের প্রতিফলন দেখা যাবে এবং ভারতীয় জনতা পার্টি বিপুল ভোটে জয়ী হবে বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, বিরোধীদের প্রার্থী সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সাফ জানান, অন্য দলের অন্দরমহলের সমস্যা নিয়ে মাথা ঘামানোর কোনো প্রয়োজন তাঁদের নেই। ক্ষমতার পরিবর্তন এনে মানুষ তাঁদের ওপর যে ভরসা রেখেছেন, সেই অনুযায়ী তাঁরা একমনে কেবল উন্নয়নের কাজই করে যাবেন।