ব্রিকস সামিটের ডিনারে শুধু নিরামিষ কেন? রাহুলের বিস্ফোরক মন্তব্যে তুলকালাম রাজনৈতিক ময়দান!

ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে আয়োজিত একটি জাঁকজমকপূর্ণ গালা ডিনারের মেনু এবং খাদ্যতালিকা ঘিরে বর্তমানে ভারতীয় রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব ও তীব্র বিতর্কের ঝড় উঠেছে। আন্তর্জাতিক এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মেলনে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য যে বিশেষ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছিল, সেখানে শুধুমাত্র নিরামিষ বা ভেজ খাবার পরিবেশন করা নিয়েই শুরু হয়েছে আইনি ও রাজনৈতিক দড়িটানাটানি। এই প্রসঙ্গে মুখ খুলে কেন্দ্রের শাসকদলকে একহাত নিয়েছেন বিরোধী শিবিরের শীর্ষস্থানীয় নেতারা।

সম্প্রতি কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ভারতীয় আমিরাশি খাবারের ভূয়সী প্রশংসা করতে গিয়ে একটি বিতর্কিত দাবি করে বসেন। তিনি প্রকাশ্যে দাবি করেন যে, দেশের প্রায় আশি শতাংশ মানুষই আমি আমিরাশি খাবার খেতে পছন্দ করেন। রাহুলের এই মন্তব্যের ঠিক পরেই ব্রিকসের গালা ডিনারে নন-ভেজ বা আমিরাশি পদ কেন রাখা হলো না, সেই প্রশ্ন তুলে সোচ্চার হন বিরোধীরা। কংগ্রেস নেতা পবন খেরা এবং তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট সাংসদ মহুয়া মৈত্রের মতো বিশিষ্ট বিরোধী মুখেরা কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে অভিযোগ করেন যে, সরকার সাধারণ মানুষের ওপর নিজস্ব খাদ্যাভ্যাস এবং রাজনৈতিক পছন্দ জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

বিরোধীদের এই তীব্র আক্রমণ ও সমালোচনার মুখে চুপ থাকেনি কেন্দ্রীয় সরকারও। শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এই অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু। তিনি বিরোধীদের পালটা আক্রমণ করে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, ব্রিকস সম্মেলনের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে আমন্ত্রিত বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান ও অতিথিরা অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গেই ভারতের ঐতিহ্যবাহী ও সুস্বাদু নিরামিষ ব্যঞ্জনের স্বাদ গ্রহণ করেছেন এবং এর ভূয়সী প্রশংসাও করেছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দাবি, ভারতীয় সংস্কৃতির পরিচয় বহনকারী এই নিরামিষ খাবার নিয়ে অযথা রাজনীতি করা হচ্ছে।

জানা গিয়েছে, ওই বিশেষ গালা ডিনারে দেশি-বিদেশি অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য বিভিন্ন সুস্বাদু পদের সমাহার রাখা হয়েছিল। মেনুতে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে ছিল স্পেশাল পনিরের পদ, মাশরুমের সুস্বাদু তরকারি, স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর মিলেট পোলাও, এবং ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় মিষ্টান্ন হিসেবে গরম গরম জিলিপি ও ঠান্ডা ফিরনি। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভারতের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরার এই আয়োজনে নিরামিষ খাবারের প্রাচুর্য থাকলেও, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এটি এখন এক বিরাট ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। একদিকে বিরোধী শিবির যখন একে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ ও জোর করে খাদ্যাভ্যাস চাপানোর রাজনীতি বলে দাগিয়ে দিচ্ছে, তখন অন্যদিকে শাসকদল একে ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও আতিথেয়তার প্রতীক বলে ডিফেন্ড করছে। সব মিলিয়ে ব্রিকস সামিটের এই ডিনার মেনু ঘিরে আগামী দিনে রাজনৈতিক অঙ্গন আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।