চোরবাগানে থিম পুজোর চিরতরে ইতি? সপ্তমীর মর্মান্তিক বিপর্যয়ের পর আর যা চাইছে না এলাকাবাসী!

গত কয়েক বছরে চমৎকার থিম পুজো করে জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছেছিল চোরবাগান সর্বজনীন। প্রতি বছর পুরস্কারের পালক যোগ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে দর্শনার্থীদের ঢলও। কিন্তু সেই রেকর্ড পরিমাণ ভিড় সামাল দিতে ব্যর্থ হওয়ায় গত শনিবার সপ্তমীর সন্ধ্যায় ঘটে যায় এক ভয়াবহ বিপর্যয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর আতঙ্কিত চোরবাগানের বাসিন্দারা আর জাঁকজমকপূর্ণ থিম পুজো চান না। এ বছর পুজো সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলেও, আগামী দিনে যাতে শুধুমাত্র পাড়ার পুজোটুকু বাঁচিয়ে রাখা যায়, প্রশাসনের কাছে এখন সেই আকুল আবেদনই জানাচ্ছেন এলাকাবাসী।

বরণহীন প্রতিমা নিরঞ্জন ও পুলিশের স্ক্যানারে কমিটি

আজ, বিজয়া দশমীর দিনেই অত্যন্ত বিষণ্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হলো চোরবাগানের প্রতিমা নিরঞ্জন। পুলিশি নির্দেশ অনুযায়ী মণ্ডপ অক্ষত রাখতে বাধ্য হয়েই প্যান্ডেলের একটি অংশ কেটে প্রতিমা বাইরে বের করা হয়। জানা গেছে, দশমীর দিন নিয়মরক্ষার্থে শুধু ঘট বিসর্জন হয়েছিল। আজ কোনও প্রথাগত বরণ ছাড়াই, প্রতিমার মুখে সন্দেশ গুঁজে দেওয়া সেই অবস্থাতেই গঙ্গাপারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় চোরবাগানের প্রতিমা।

এদিকে পুজোর অনুমতি চেয়ে পুলিশের কাছে পুজো কমিটির তরফে যে আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল, তা বর্তমানে খতিয়ে দেখছে লালবাজার। কমিটির জমা দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কতটা গরমিল ছিল, তা জানতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে ওই অনুমতিপত্র ও নথি তলব করেছে তদন্তকারী দল।

তদন্তে নামল কলকাতা পুলিশের SIT

চোরবাগানের ঘটনার গভীরে পৌঁছাতে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। এই বিশেষ টিমের নেতৃত্বে রয়েছেন কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (স্পেশাল, ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট) তথা আইপিএস অফিসার শৈলজা দাস। বেরনোর ঢালু জায়গার ত্রুটি থেকে শুরু করে ভিড় নিয়ন্ত্রণের গাফিলতি—সব দিক খতিয়ে দেখে এই তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর সকলের।